বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। বুধবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে আদর্শ প্রকাশনী এবারের বইমেলায় আর স্টল বরাদ্দ পাচ্ছে না।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলা একাডেমির আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয়া হয়। এদিন আদালতে আদর্শ প্রকাশনীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। বাংলা একাডেমির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি আদর্শ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ না দেয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান। পরে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার আদর্শ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
এক্ষেত্রে যে বইগুলোর বিষয়ে বাংলা একাডেমি আপত্তি জানিয়েছে সেসব বই স্টলে রাখা যাবে না বলে আদেশ দেয়া হয়। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে বাংলা একাডেমি।
এবারের বইমেলার স্টল বরাদ্দের তালিকা ১২ জানুয়ারি প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি, যাতে আদর্শর নাম ছিল না। এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে গত ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আদর্শকে স্টল বরাদ্দের লটারির জন্য বিবেচনা না করার ব্যাখ্যা দেয়।
এতে বলা হয়, আদর্শ থেকে প্রকাশিত ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা ‘মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটি অমর একুশে বইমেলা- ২০২৩ এর ‘নীতিমালা ও নিয়মাবলী’র ১৪ অনুচ্ছেদের ১৪.১৪, ১৪.১৫ উপ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
তাই মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম আদর্শের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বইটি মেলায় প্রদর্শন না করার শর্ত দিলে মাহবুবুর রহমান তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।
যে কারণে আদর্শকে স্টল ও প্যাভেলিয়ন বরাদ্দের লটারিতে অংশ নেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। পরে ‘মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটির প্রদর্শন ও বিক্রি থেকে বিরত থেকে মেলার নীতিমালা অনুসরণ করা হবে জানিয়ে আবেদন করা হয় আদর্শের পক্ষ থেকে।
এর পরেও স্টল-প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের লটারিতে আদর্শকে না রাখায় ২৪ জানুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন মাহবুবুর রহমান। কিন্তু আবেদনটি খারিজ করে স্টল বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে বাংলা একাডেমি।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৯
এরপর ২ ফেব্রুয়ারি একাডেমির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আদর্শের মালিক। রিটের শুনানিতে ‘মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটির পাশাপাশি আলোচনায় আসে ‘উন্নয়ন বিভ্রম’ও ‘অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবনীয় কথামালা’ বই দুটি নিয়েও আপত্তি তোলে রাষ্ট্রপক্ষ।
এক পর্যায়ে বই তিনটি মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি হবে না, এ মর্মে আদর্শের কাছে লিখিত অঙ্গীকার চায় আদালত। সে অঙ্গীকার দেয়ার পর আদর্শকে স্টল বরাদ্দ দেয়ার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
একাত্তর/আরএ