শত পুরাতন পাঠাগার বন্ধ হয়ে যায় বইয়ের অভাবে। আপনি একটি বই কিনলে, একটি বই ফ্রি পাবে গ্রাম্য পাঠাগারগুলো। এমন আহ্বান জানিয়ে এবার পাঠাগার বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। অমর একুশে বইমেলায় তাদের স্টল থেকে নেয়া হয়েছে পাঠাগার বাঁচানোর এমন উদ্যোগ। পাঠকের মাঝে সাড়াও ফেলেছে দারুণ।
জীর্ণ প্রাচীন থিমে সাজানো বাংলা একাডেমি প্রান্তে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্টলটিতে আপনাকে স্বাগত জানাবেন দুজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আহ্বানটা ‘শত পুরাতন পাঠগার বন্ধ হয়ে যায় বইয়ের অভাবে, আপনি বই কিনলে একটি বই ফ্রি পাবে গ্রাম্য পাঠাগারগুলো’।
এতে সাড়াও দিচ্ছেন সচেতন পাঠক। তারা বলছেন, বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগে যদি বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঠাগার চালু হয়, কিংবা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পড়ার তৃষ্ণা মেটে, তার চেয়ে আনন্দের কি হয়? সেই আনন্দ তো আছেই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুজন বিক্রয় কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে মানবিকতার বিরল এক উদাহরণ তৈরি করেছে বিদ্যানন্দ।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ প্রধান সালমান খান ইয়াছিন জানান, শত বছরের অনেক পুরাতন পাঠাগার এখন আর নেই। আমরা নতুন বই দিয়ে সে পাঠাগারগুলোকে বাঁচাতে চাই। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সে আবেদন তুলে ধরতে চায় মেলায় আসা সাহিত্য প্রেমীদের কাছে।
বিদ্যানন্দের অনেক মানবিক আয়োজনের মতোই এই উদ্যোগটি পূর্ণতা পাবে, এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন সবাই। কিছুদিন আগেই নিরক্ষর মানুষগুলোর গল্প প্রকাশের অভিনব একটি উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে নিরক্ষররাও হয়েছে লেখক।
বিদ্যানন্দের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবীরা দেশের আনাচে-কানাচে গিয়ে নিরক্ষর মানুষদের গল্প সংগ্রহ করেছেন। সংকলন ও প্রচ্ছদ শেষে ১২ জন নিরক্ষর মানুষের গল্প নিয়ে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর অনন্য বই- ‘নিরক্ষরের গল্পগুচ্ছ’।
বিভাগীয় শহরে নিয়মিত খাবার বিতরণের পাশাপাশি অসহায় মানুষের জন্য জনকল্যাণমুখী ও মেধাভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সাত এতিমখানা, পাঁচটি স্কুল, হাসপাতাল, আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প সহ বছরজুড়ে অসংখ্য প্রকল্প রয়েছে বিদ্যানন্দের।
একাত্তর/আরবিএস