তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় বাড়লেও ক্রয়াদেশ কমেছে

সরকারি সংস্থা রপ্তানি উন্নযন ব্যুরো- ইপিবি’র দাবি, চলতি অর্থ বছরের ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪.৩১ শতাংশ। তবে রপ্তানিকারকদের হিসেবে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও বিশ্ব মন্দায় পোশাকের চাহিদা এ সময় বরং ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমেছে। 

তাদের মতে ইপিবি যে প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, তা পণ্য মূল্যবৃদ্ধি যা হয়েছে কাঁচামাল ও ডলারের দাম বাড়ার প্রভাবে। এই সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার কমেছে। ফলে পোশাক রপ্তানিও কমে গেছে। তবে ক্রয়াদেশ বাড়াতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

দৃশ্যপট এমন, ঢাকার এক গার্মন্টসে শ্রমিকরা পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব পোশাক যাবে ইউরোপে। এগুলোর ক্রয়াদেশ এসেছিলো ৬ থেকে ৭ মাস আগে। কারখানা মালিক বলছেন, বিশ্ব মন্দায় এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অনেক ক্রেতাই ক্রয়াদেশ কমিয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তার ধারনা এটি আরো কমতে পারে।

কিন্তু ইপিবির তথ্য এর সাথে মিলছে না। রপ্তানিকারকদের কথার সাথে। উল্টো বলছে প্রতি মাসেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে পাল্লা দিয়ে কখনো প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৬ শতাংশ আর সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিলো ১০.৫৫ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেই রপ্তানির তথ্য নেয় ইপিবি। 

তথ্যের এই গড়মিল নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য মো: আলী আহমেদ বলছেন, ডলারে দাম এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহে সময়ের হেরফরে এটি হতে পারে।

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য বলছে, এই সময়ে পোশাক রপ্তানির কাঁচামাল ব্যবহার অনূমোদন বা ইউডিও তেমন একটা বাড়েনি। তবে বেশ কিছু উচ্চ মুল্যের পোশাক রপ্তানি এবং কাঁচামালের চড়া দামে হয়তো রপ্তানি আয় বেশি দেখাচ্ছে।

বিজিএমইএ- এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল্ল্যাহ আজিম বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক বলছে, ২০২৩ সাল আমাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। ক্রেতারা ছোট-ছোট ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। যার প্রভাব কারখানাগুলোতে পড়ছে। রপ্তানি আয় বাড়লেও পোশাক তৈরিতে ব্যয়ও বেড়েছে।

ইপিবির তথ্য বলছে অর্থ বছরের ছয় মাসে মোট রপ্তানি আয় ছিলো ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেখানে পোশাক রপ্তানি আয়ই সাড়ে ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


একাত্তর/এআর