উচ্চ ব্যয়ে মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ না পাবার অভিযোগ

পাঁচ মাসে মালয়েশিয়া গেছে ৮০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। যদিও এরই মধ্যে চার লাখ টাকা খরচ করে দেশটিতে গিয়ে কাজ না পাবার অভিযোগ উঠেছে।

আবার মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্রহণ না করায় দেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব কিছুর পরও ভিসা হয়ে দেশটিতে যাবার অপেক্ষায় আছেন আরও এক লাখ ৬০ হাজার কর্মী।

টানা ৪৪ মাস বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার নির্মাণ, সেবা, কৃষি, পর্যটনসহ বিভিন্ন সেক্টরে গেলো বছরের আগস্ট মাস থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হয়।

কত এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে এই দ্বন্দ্বে বন্ধ থাকা বাজারটিতে এখন প্রতিদিনই প্রায় ১২০০ কর্মী কাজের জন্য যাচ্ছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা।

এই কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা, মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, দূতাবাসের অনুমোদন, ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে স্বাভাবিকভাবে সময় দরকার এক থেকে দুই মাস। 

কিন্তু সব প্রক্রিয়া শেষে কর্মীরা মালয়েশিয়া যাবার পর ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। যে কোম্পানি এসব কর্মীদের গ্রহণ করেনি তাদের কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি উঠেছে। 

নিয়োগদাতা কোম্পানি গ্রহণ না করায় গত শুক্রবার বিমানবন্দর থেকে ১৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। ছাড়পত্রের আশায় দুই দিন বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড ঢাকা থেকে এয়ার এশিয়ার একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার এভারলেনটেন কোম্পানির জন্য ২৯ জন কর্মী পাঠায়।

মালয়েশিয়ান কোম্পানিটি ২৯ জনের মধ্যে ১০ জনকে গ্রহণ করেন। কোম্পানি গ্রহণ না করায় ১৯ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারা ব্যবস্থা নেবেন। কি কারণে ১৯ জনকে ফেরত পাঠানো হলো তা জানতে চাওয়া হবে। 

এদিকে, সম্প্রতি অভিযোগ এসেছে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় দিয়েও দেশটি গিয়ে কোনো কাজ পাচ্ছেন না কর্মীরা। অস্বাস্থ্যকর এবং অমানবিক জীবন যাপন করছেন তারা।

যদিও কর্মীরা কোন এজেন্সির মাধ্যমে গেছেন বা কোন শহরে আছেন তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। মন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা খতিয়ে দেখবেন। 

২০১৩ সালে জিটুজি পদ্ধতিতে এবং পরে ২০১৭-১৮ সালে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে প্রায় আড়াই লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়া যায়। এরপরই অনিয়ম এবং দুর্নীতির দায় বন্ধ ছিলো বাজারটি।


একাত্তর/এসি