রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় মাদক মামলার আসামি শাওন হত্যায় জড়িত মিজান ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে যাত্রাবাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশি অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল।
পরের দিন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এ সময় তিনি জানান, এলাকায় ‘আধিপত্য’ বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের বিবাদের জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি বলেন, গ্রেফতার মিজান যাত্রাবাড়ী এলাকার ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী’। তার নামে মীরহাজিরবাগ এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সময় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মারামারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলাও রয়েছে।
র্যাব মুখপাত্র জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার রজবের সঙ্গে সমস্যা চলছিল ভুক্তভোগী শাওনের। এরই জেরে রজবের বড় ভাই মিজান বেপারি শাওনকে গত রোববার হত্যার পরিকল্পনা করে।
১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রীর ওষুধ কিনতে গেলে শাওনকে ছুরি দিয়ে কোপায় মিজান। এ সময় রাস্তার মোড়ে পাহারায় ছিল জুয়েল। আহত অবস্থায়ও পালানোর চেষ্টা করছিলো শাওন। এ সময় তাকে আরও কয়েকবার ছুরি মেরে মৃত্যু নিশ্চিক করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা।
জুয়েলও মীর হাজীরবাগের বাসিন্দা, কাজ করেন ওয়ার্কশপে। মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধেও। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় জুয়েলের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা মঈন। এর আগে শাওন খুনে নাবিল নামের একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
এই ঘটনায় শাওনের ভাই বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় নামসহ ৪ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে জানা যায় যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় মাদকের কারবার নিয়ে গত মাসে শাওন ও রজবের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রজব তার বড় ভাই মিজানকে জানালে সে শাওনকে হত্যা করে।
একাত্তর/এআর