সেই বজলু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেকে মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার আলোচিত বজলুর রহমান বজলু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) মারা গেছেন।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। বজলু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি ছিলেন বজলু মেম্বার। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ দিন আগে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অধীনে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। 


আলোচিত বুয়েট ছাত্র ফারদিনের মৃত্যুর পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন বজলু। সে সময় তার বিরুদ্ধে র‍্যাবের ওপর হামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা চলমান ছিল। গ্রেপ্তারর সময় বজলুর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ২২০ গ্রাম হেরোইন, ২৫ হাজার ভারতীয় রুপি ও ৭৫ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করে র‍্যাব। 

তার গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, বজলুর হাতে গত এক দশক যাবত জিম্মি ছিলেন চনপাড়ার লক্ষাধিক মানুষ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বজলু এক দশকে চনপাড়ায় গড়ে তুলেন সন্ত্রাসের রাজত্ব। সেখানে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তিসহ সব ধরনের অপকর্মের হোতা ছিলেন তিনি। 

তারা আরও জানান, চনপাড়ার মানুষ বাড়িঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে পানি পান করতেও বজলুকে চাঁদা দিতে হতো। তার নামে রূপগঞ্জ থানায় ১৩টি মামলা আছে। 

আরও পড়ুন: ইফতারে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

স্থানীয়রা জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বজলু মেম্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ছিলেন ব্যাপক সমালোচিত। চনপাড়া বস্তিতে হত্যাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে ঘুরে ফিরে বজলু মেম্বারের নাম বারবার সামনে এসেছে। 

র‍্যাবের দায়ের করা চারটি আলাদা মামলায় তিনি এতোদিন জেল হাজতে ছিলেন। গত সপ্তাহে কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বজলুর পরিবার সূত্র জানিয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার তার লাশ চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে দাফন করা হতে পারে। 


একাত্তর/এসি