আর মাত্র কয়েকদিন পরই ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। বাঙালির সবচেয়ে
বড় সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ বরণে চলছে প্রস্তুতি। অন্যতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে মহাকর্মযজ্ঞ
চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে। যুদ্ধ নয়, শান্তির প্রার্থনায়,মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বরিষ ধরা মাঝে
শান্তির বারি’ পংক্তিটি।
নতুন সময় আসে। নক্ষত্রের আলো আসে। মাটি খুলে রাখে ছায়ামূর্তি; নতুন বাংলা বছরকে বরণ করতে প্রস্তুত চারুকলা প্রাঙ্গণ। অনুষদের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত শোভাযাত্রার নানা অনুষঙ্গ তৈরিতে। কেউ রঙ তুলিতে ফুটিয়ে তুলছেন মুখোশ, কেউ বা রঙ করছেন পাখায়।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আর বর্ষবরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আনুষ্ঠানিকতা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার এসব কর্মযজ্ঞের দায়িত্বে রয়েছেন চারুকলার নতুন ও পুরাতন শিক্ষার্থীরা।
সব মিলিয়ে বর্ষবরণের আগাম আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে আয়োজন। জয়নুল গ্যালারির সামনে তৈরি মুখোশ, ছবি আর সরা রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। পাওয়া অর্থেই নির্বাহ হবে শোভাযাত্রার খরচ। চারুকলা প্রাঙ্গণে এবার তৈরি হচ্ছে ছয়টি মোটিফ। এগুলো হলো বাঘ, ময়ুর, নীলগাই, টেপা পুতুল আর মায়ের কোলে সন্তান।
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার দায়িত্বে আছে ২৪-তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙ্গার আহ্বানে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০২৬ সালে অর্জন করেছে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি।
এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা চারুকলা অনুষদ থেকে সকাল ৯টায় বের করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রা শাহবাগ মোড় হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হবে। এ সময় ভুভুজেলা বাজানো ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানায় শোভাযাত্রা উদযাপন কমিটি।
পহেলা বৈশাখের দিনে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিধিনিষেধ
নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে অপরাহ্ন ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। এরপর কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না।
নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না।
নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধুমাত্র নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন।
একাত্তর/আরবিএস