আগুনে সব ছাই হয়ে যাবার পর, আবারও বসেছে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি পোশাকের বাজার বঙ্গবাজার। কিন্তু এই বাজারকে চেনা দায়। হঠাৎ করে দেখলে বড়ই অচেনা লাগে।
খোলা আকাশের নিচে চৌকি বিছিয়ে রং-বেরংয়ের ছাতার নিচে চলছে, আগুনে সব হারানো ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা। আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের শুরু।
দোকানের চেহারা বদলের মতোই পাইকারি বিক্রির বদলে এখন খুচরা বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ পুরনো রূপে ফিরতে সময়, টাকা বা পরিবেশ কোনটাই নেই এখন।
বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে কমপক্ষে অস্থায়ী কোনো ছাউনি পেলেও ক্ষতি কিছুটা কাটানো যেতো। তবে এটিও মানছেন, অস্থায়ী ছাউনির নির্মাণের সময়ও নেই।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেলো, এ যেন অচেনা এক বঙ্গবাজার, ১০ দিনের ব্যবধানে মার্কেট থেকে ছাতার নিচে বসতে হলো আগুনে পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারের পোশাক বিক্রেতাদের।
চার এপ্রিল ভোরে পুড়ে যাওয়া এই চত্বরে বালির ওপর দোকান চালু করতে পারেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা গেলো। দুই দিনে বিক্রি খানিকটা বেড়েছে বলেও জানান বিক্রেতারা।
তবে পাইকারী ক্রেতারা না আসায় খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান বঙ্গবাজারের ব্যবসয়ীরা। বলেন, বাজারে পাইকারদের চাহিদা পূরণের জন্য পণ্যের মজুদ নেই; নেই কোনো পাইকারও।
খুচরা ক্রেতাও খুবই কম। তবুও চৌকি খাটিয়ে অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা। মাঝে মধ্যে কয়েকজন খুচরা ক্রেতাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও কাউকে কেনাকাটা দেখা যায় না।
তবে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড তাপদাহ। কোনো ধরনের শেড না থাকায় ছাতা নিয়ে সারাদিন দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তারা।
তবে এখনও চালু হয়নি ইসলামীয়া মার্কেট, গায়েবী মার্কেটসহ আরও তিনটি মার্কেট। সেখানেও চলছে দোকান বসানোর প্রস্তুতি। মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ চালুরও উদ্যোগ চলছে।
মার্কেট কমিটি কিছু ব্যবসায়ীকে তালিকা করে চৌকি বসানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বুধবার প্রায় সাতশজনকে দোকান বুঝিয়ে দেয়া হলে চৈত্রের খরতাপের মধ্যেই দোকান শুরু করেন তারা।
একাত্তর/এআর