'তিনতলার ৬০ শতাংশ দোকান পুড়ে গেছে'

রাজধানীর  নিউ সুপার মার্কেটের দক্ষিণ ভবনের আগুনে তিনতলার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ দোকান পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন এক ব্যবসায়ী নেতা। 

কেনাবেচার সবচেয়ে বড় মৌসুমে দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী। অনেককেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তা ভরে দোকানের মালামাল করতে দেখা গেছে। অনেকেই দোকানে গচ্ছিত অর্থ বের করতে ঝুঁকি নিয়েছেন। 

ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন একাত্তর টেলিভিশনকে বলেন, তিনতলার অর্ধেকটাতে আগুন লেগেছে। এই তিনতলায় যে পরিমাণ দোকান আছে তার ৭০ থেকে ৬০ ভাগ দোকানে আগুন লেগে গেছে।

শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের আগুন ধরে। দমকলের ৩০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে। তাদের সহায়তায় মাঠে নেমেছে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরাও।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন ঘন্টা পর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে  নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, মার্কেট লাগোয়া ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ফুট ওভারব্রিজ ভাঙতে গিয়েই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। 

এ বিষয়ে নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহীন বলেন, এটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এক বছর আগেই এটাতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। 

‘সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছিল ভাঙার এটা সঠিক। কিন্তু ওরা যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে ভাঙে তাহলে এটা ভুল কাজ হয়েছে। এখন এটা তদন্ত সাপেক্ষে বের হবে দোষটা কার?’

দিশেহারা ব্যবসায়ীরা 

আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও স্থানীয়রা। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালামাল বের করতে থাকেন। কিন্তু প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে সম্ভব হয় নি। 

এক ব্যবসায়ী বলেন, ভেতরের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমি গিয়ে যে মালামাল বের করবো তা পারছি না। ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। চোখ জ্বলছে। 

‘বেচা বিক্রি বেশি হচ্ছে এজন্য প্রতিদিনই আমরা পণ্য আনছিলাম। ক্যাশে টাকা আছে। কিন্তু বের করতে পারছি না।’ 

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিক্রিও বেশি হয়েছে। মধ্যরাত পর্যন্ত আমরা বিক্রি করেছি। গভীর রাত হওয়ায় বিক্রির সব টাকা দোকানেই গচ্ছিত ছিল। কিন্তু সেই টাকাও বের করতে পারছি না। 

নিউ সুপার মার্কেটে প্রায় ১২০০’র মতো দোকান ছিল বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দোতলা, তিনতলায় মূলত পোশাকের দোকান। নিচতলায় জুতা, স্যান্ডেল, ক্রোকারিজসহ অন্যান্য পণ্যের দোকান। 

আগুন, ধোয়া ও ফায়ার সার্ভিসের ছিটানো পানি; কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসায়ীদের পণ্য। বেশিরভাগ পোশাকই পুড়ে গেছে অথবা পানিতে ভিজে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

পোশাকের দোকান হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও সময় লেগেছে বলে দমকলকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

মার্কেটটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাতেও যে দুর্বলতা ছিল সে চিত্রও ফুটে উঠেছে আগুন নেভানোর ঘটনা দেখে।  

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা হাতুড়ি, শাবল দিয়ে বাইরে থেকে দেয়াল ভেঙে পানি ছিটানোর ফুটো বের করেছেন। ভেঙে ফেলা হয়েছে জানালা। 

ধোয়া ও গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা দমকলকর্মীদের তাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


একাত্তর/আরবি