গ্যাস লাইনের লিকেজ ডেকে আনতে পারে বড় দুর্যোগ

গ্যাস লাইনে লিকেজ রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল শহরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। গেলো সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লিকেজ তিতাস কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও শঙ্কা দূর হচ্ছে না। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপন বা সংস্কার, গ্যাসের চাপ ও লিকেজ শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 

সোমবার দিবাগত রাত ১১টা থেকেই ঢাকার খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী, বেইলি রোড, তেজগাঁও, মহাখালী, লালবাগ, ইস্কাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের ঝাঁঝাল গন্ধ ছড়ায়। মুহুর্তে গ্যাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকায়। মধ্যরাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে মানুষ। 

তিতাস কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঈদের ছুটিতে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ বেড়ে যায়। যার ফলে বিভিন্ন লিকেজ দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসে। অবশ্য গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিয়ে রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কর্তৃপক্ষ। 

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তার আগেই মাইকিং করা হয় চুলা বন্ধ রাখার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও চুলা জ্বালানোর পরামর্শ দেয়া হয়। 

গ্যাস লিকেজের এমন ঘটনা কতোটা ভয়ানক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে অনেক উদাহরণ আছে। ২০২১ সালে মগবাজার বিস্ফোরণ, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ ও অতি সম্প্রতি সায়েন্সল্যাব মোড় ও সিদ্দিকবাজারের ভয়াবহ বিষ্ফোরণ গ্যাস লিকেজ থেকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এছাড়া, ২০১৯ সালে ঢাকার মিরপুর রোডে গ্যাস লাইনে লিকেজ হওয়ার কারণে একটি বাস এবং একটি পিকআপে আগুন লেগে যায়। ২০১৬ সালে টঙ্গির টোম্প্যাকো ফয়েল লিমিটেড কারখানায় অবৈধ গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিলো।

গত অর্থবছর ঢাকার এক হাজার ৬৮২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মান পরীক্ষা করে ৪৫৯টি ছিদ্র পাওয়ার কথা জানায় তিতাস। পরে সেগুলো মেরামত করা হয়। এ সময় তিতাসের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যতো অভিযোগ আসে তারমধ্যে গ্যাসের পাইপলাইনে ছিদ্রের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ ছিল চার হাজার ৮৯১টি।

আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সোমবার রাতে এক সাথে এতোগুলো এলাকায় গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনায় যেকোন মুহূর্তে আগুনের সংস্পর্শে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এই গ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পুরনো পাইপ লাইনের মাধ্যমে ঢাকায় গ্যাস সরবাহ করে তিতাস। সংস্কারের অভাবে অনেক জায়গাতেই গ্যাস লাইনে ছিদ্র আছে। তিতাসের পাইপগুলোর বয়স এরইমধ্যে ৩০ থেকে ৫৫ বছরের পুরোন হয়ে গিয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ পাইপলাইন ব্যবহারের কারণে গ্যাসের সরবরাহ লাইনে, না হলে এর সংযোগস্থলে ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে। যা থেকে গ্যাস বেরিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। আবার লিকেজ না থাকলেও পুরোন পাইপলাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। 

তিতাসের সবশেষ জরিপ অনুসারে তাদের মোট পাইপলাইন রয়েছে ১৩,৩২০ কিলোমিটার জুড়ে। এরমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে ঢাকা মহানগরীতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরো পাইপলাইন নিয়ে জরিপ করা হলে পাওয়া যাবে হাজার হাজার ছিদ্র বা লিকেজ। 

শুধু গ্যাস লিকেজই নয়। ক্ষতিগ্রস্থ গ্যাস লাইন ভূমিকম্পের সময় ঢাকার মতো জনবহুল শহরে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত পুরনো পাইপলাইন পাল্টানো বা সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন এখাতের বিশেষজ্ঞরা। 


একাত্তর/এআর