মধু মাস জৈষ্ঠ্যের ফলে রাজধানীর বাজার ভরে উঠেছে। বাজারে এখন আম-জাম-কাঁঠাল লিচু জামরুল আর আনারসের প্রচুর যোগান। বিক্রিও হচ্ছে ধুমতালে।
কিন্তু বরাবরের মতো পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দ্বিগুনেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব রকম ফল। পাইকারি বাজারে ৪০ টাকার আম খুচরায় বিক্রি হচ্ছে অন্তত ১০০ টাকায়।
পঞ্জিকার পাতায় চলছে জ্যৈষ্ঠের দিন গোনা। আবহাওয়া যেমনই হোক, গ্রীষ্ম ঠিকই ডালা সাজিয়ে দিয়েছে তার অতুলনীয় সব ফলের সম্ভারে।
মিরপুর গিয়ে দেখা গেছে আড়তে ট্রাকে ট্রাকে আসছে আম-লিচু-আনারস। রাজধানীর বাজার এখন সাতক্ষীরার আমের দখলে। লিচু আসছে নাটোর আর আনারস আসছে টাঙ্গাইল থেকে।
সাতক্ষীরার গুটি আম পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা কেজি। হিমসাগর কেনা যাচ্ছে, ৪০ থেকে ৫০ আর গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।
রাজশাহীর গোপালভোগ রাজধানীতে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ মে থেকে। এরপর লক্ষণভোগ পাওয়া যাবে ২০ মে। আর ২৫ মে হিমসাগর, ৬ জুন ল্যাংড়া, ১০ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি আর সবশেষ আশ্বিনা আম কেনা যাবে ১০ জুলাই থেকে।
নাটোরের লিচু এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশ’ টাকা শ’। চায়না থ্রি লিচু এখন বাজারে কম। যাও পাওয়া যাচ্ছে বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকা শ’।
বাজারে ঘ্রাণ ছড়ানো পাকা কাঁঠাল পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস কেনা যাচ্ছে এক হাজার থেকে চার হাজার টাকা শ’।
তবে, পাইকারি বাজারের সাথে দামের মিল নেই খুঁচরা বাজারের দৃশ্য। যেমন পাইকারি বাজারে ৪০-৫০ টাকা কেজির হিমসাগর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুন দাম ১০০ টাকা কেজিতে।
দামের এমন পার্থক্য প্রায় সব ফলেই। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচের কারণে তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর পঁচে যাওয়া ফলের হিসাবও যোগ হয় দামে।
দেশি ফলের আধিক্যে বাজারে কমে গেছে আমদানি করা বিদেশি ফল আপেল-কমলা-আঙুরের বিক্রি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধু মাসের সময় তারাও বিদেশি ফল আমদানি কমিয়ে দেন।
তবে তারা স্বীকার করলেন, ডলারের দাম বাড়তি থাকায় বিদেশি ফলের আমদানি কমেছে। এই সুযোগে বাজারে দেশি ফলের কদর বেড়েছে।
একাত্তর/এসি