শুধু আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দুই বছরে সাড়ে তিনশ’ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন সহিদুল ইসলাম। শিবচরে বসে যুক্তরাষ্ট্র-ইংল্যান্ড আর কানাডার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন।
ওদিকে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষকে ফ্রি ল্যান্সিংয়ের কাজ শিখিয়েছেন মাদারীপুরের এক তরুণ উদ্যোক্তা। তার মতে, এ জেলায় এখন দুই শতাধিক সফল ফ্রিল্যান্সার আছে।
শিবচরের ভেতরেই হাইটেক পার্ক বানিয়ে ফেলেছেন সহিদুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন ‘সি এম ওয়ার্ক সল্যুশনস’। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই তার চার অফিস আর সাড়ে তিনশ’ কর্মী।
সহিদুল ইসলামের গ্রাহকদের সবাই বিদেশি। গ্রামের তরুণরাই এখানে কাজ করছেন অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট অটোমেশন, ই-কমার্স বিজনেস ম্যানেজমেন্টের মতো জটিল বিষয়ে।
অথচ সহিদুলের এক সময় নিজের একটা বাইসাইকেলের শখ পূরণ হয়নি। টাকার অভাবে উচ্চ মাধ্যমিকের পর আড়াই বছর বন্ধ ছিল সহিদুলের পড়ালেখা।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা করেও যখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়া গেল না, সহিদুলের তখন খাওয়া-পরার টাকাও শেষ। ২০০৮ সালে প্রথম জানতে পারেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা।
আজিমপুরের মেসে বন্ধুর কাছ থেকে সেই খবর যান সহিদুল। মামার পুরনো কম্পিউটার আর ভগ্নীপতির কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে শুরু হয় স্বপ্নযাত্রা।
ইন্টারনেট কিনেই আপওয়ার্কে কাজ খুঁজতে থাকেন। এক বছর পর প্রথম কাজ পান, ২৫ সেন্ট বা ২৭ টাকার। যেখানে আসে বাজে রিভিউ। তবে দমে যাননি তিনি। চেষ্টা চালিয়ে যান।
এর পাশাপাশি চলে গুগল ও ইউটিউবে কাজ সম্পর্কে জানা–বোঝা। দিনের বেশির ভাগ সময় এভাবে চলে যেত। ডেটা এন্ট্রি, ই-কমার্স বিপণনের কাজও শিখতে থাকেন তিনি।
ধীরে ধীরে সহিদুলের কাজ বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে কর্মী সংখ্যাও। কিন্তু করোনার থাবায় সেটি আবারও চলে আসে তলানিতে। পরের দু’বছরেই ম্যাজিক।
কর্মী বেড়ে যায় এই লাফে ১১ গুণ। জাতীয় গণমাধ্যমেও চলে আসেন আলোচনায়। সহিদুল বলেন, প্রতিদিন আপওয়ার্কে ৫ থেকে ১০টা আবেদন করতাম। কিন্তু কাজ পেতাম না।
তিনি আরও বলেন, শেষে এমন অবস্থা, ইন্টারনেট বিল আর খাওয়া–পরার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে উঠল। প্রায় এক বছর পর আমি প্রথম কাজ পাই।
এক সময় সহিদুলের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১২ সালের শেষ দিকে ৫ জন কর্মী নিয়ে গড়ে তোলেন ‘সিএম ওয়ার্ক সল্যুশনস’ নামের প্রতিষ্ঠান।
সিএম সল্যুশনস এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের কাজ করে। আর তা শিবচর থেকেই। কয়েকজন বিদেশি গ্রাহকও শিবচর ঘুরে গেছেন।
সহিদুলের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, দরিদ্র ও মেধাবী তরুণরাই এখানে সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। শিবচর থেকে আধ ঘণ্টার দূরত্বে মাদারীপুর।
সেখানে পাওয়া গেল আরেক ফ্রিল্যান্সার মেহেদী হাসান শুভকে। ১০ হাজারের বেশি মানুষকে শিখিয়েছেন কিভাবে করতে হয় ফ্রিল্যান্সিং। নিজেও মাসে আয় করছেন গড়ে দুই লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: ‘হৃদরোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে দিতে পারে সরকার’
শুভর ছোট্ট ঘর জুড়ে সাজানো ক্রেস্ট। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে পেয়েছেন রাইজিং ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসহ আইসিটি খাতের নানা স্বীকৃতি।
এসব সাফল্যকে তারুণ্যের বিপ্লব বলেই মনে করছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে উচ্চগতির ইন্টারনেট আর আইটি ফ্রিল্যান্সারদের প্রণোদনার সুফল পৌঁছে যাচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলে।
একাত্তর/এসজে