সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

বেসরকারি খাতের বিপুল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই থেকেই এটি চালু করতে চান অর্থমন্ত্রী। 

তবে, এটি বাস্তবায়নে কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কাজ শুরু না করায়, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপও দেখতে চেয়েছেন তারা। 

দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে চার কোটি ৭৪ লাখ। ৬০ বছরের বেশি মানুষ রয়েছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ। 

২০৩০ সালে এই সংখ্যা আরো দুই ভাগ বেড়ে ১২ শতাংশে দাঁড়াবে। তরুণ, মধ্যবয়স্ক কিংবা বৃদ্ধ, দেশের বিপুল এই জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বজনীন পেনশন সুবিধা চালু করতে চায় সরকার। 

এর জন্য ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের নিয়ে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেখানে মাসিক কিস্তিতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা দিতে হবে। সর্বনিম্ন কিস্তি হবে ১০০ টাকা। 

প্রস্তাবিত স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হলে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি একজন সুবিধাভোগী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক একজন সুবিধাভোগী ন্যূনতম ১০ বছর পর্যন্ত চাঁদা দেয়া সাপেক্ষে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

পেনশন স্কিমে ৬০ বছর বা এর বেশি বয়সীরা অবসরে যাবার পর এককালীন বা অবসরকালীন ভাতা পাবেন। কেউ মারা গেলে তার পরিবার এই অর্থ পাবে। 

পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে পেনশনারের নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্য হবেন।

থাকবে জমা করা অর্থের বিপরীতে ঋণের ব্যবস্থাও। মিলবে করমুক্তির সুবিধাও। দেশের বাইরে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও অংশ নিতে পারবেন এ স্কিমে।

আসছে জুলাই মাসে এই স্কিম চালু করতে চায় সরকার। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অর্থ বিভাগের আওতায় আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ স্কিম পরিচালিত হবে। 

তহবিলে জমা হওয়া অর্থ লগ্নি করা হবে সরকারি বন্ড বা ট্রেজারি বিলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে, রাষ্ট্রের সব নাগরিককে এমন সুবিধা দেয়া সম্ভব। 

তবে তবে বাস্তবায়নে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের জন্য প্রাথমিক তহবিলের অর্থ কোথা থেকে সংস্থান করা হবে, সেটি অনিশ্চয়তা। 

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেমন হবে, কীভাবে গঠন হবে পেনশন কর্তৃপক্ষ, তাদের দায়দায়িত্ব কী হবে, কার্যপ্রণালি কেমন হবে, ন্যূনতম প্রিমিয়াম হার কত হবে।

তহবিল ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, কীভাবে এবং কোথায় পেনশন তহবিল বিনিয়োগ হবে, লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন করা হবে, সেগুলো নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।

তা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষের নামে পৃথক হিসাব খোলা, সেটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

শুরুতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। কারণ তাঁরা এরই মধ্যে পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। 


একাত্তর/এআর