মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো সৃষ্টিকর্ম ও তার লেখক জাতীয় পুরস্কার পেতে পারে না বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদক ও পুরস্কার প্রদানে যে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন উঠেছে, তা অবশ্যই থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রীয় পদক প্রদানে আমলাতান্ত্রিকতার কারণে কিছু কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে তা আর নেই।
শুক্রবার ঢাকায় এফডিসিতে নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা জানান।
নজরুল নিয়ে গবেষণা আরও বাড়াতে হবে মন্তব্য করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, নজরুল গবেষণা যতটা হওয়া দরকার, ততটা হচ্ছে না। তবে তুলনামূলক বিচারে ওপার বাংলার চেয়ে এপার বাংলায় নজরুল চর্চা অধিক।
তিনি বলেন, নজরুলের লেখা, বাণী, সুরসহ সৃষ্টিকর্মকে বিকৃত করা যাবে না। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নজরুল ইনস্টিটিউট নজরুলকে নিয়ে শুদ্ধ চর্চার চেষ্টা করছে। নজরুলকে আমরা আনুষ্ঠানিকতায় বন্দি করে ফেলেছি, কথাটি অনেকটাই সত্য।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নজরুল তার এক জীবনে যা লিখেছেন, তা একজন মানুষ সারাজীবনেও পড়ে শেষ করতে পারবে না। নজরুলের রচিত কাব্য ও সংগীত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, নজরুল ধর্ম নিয়ে কখনওই বাড়াবাড়ি করেননি। তিনি ছিলেন অন্যায়-অত্যাচারের বিপক্ষে এক অতুলনীয় শক্তি। অধিক নজরুল চর্চা বাড়লে কমতে পারে রাজনৈতিক হানাহানি ও বিভাজন।
এ সময় ‘সংগীতের চেয়ে গদ্য ও কবিতায় নজরুল বেশি জনপ্রিয়’ শীর্ষক ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে সরকারি বাঙলা কলেজকে পরাজিত করে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, উন্নয়নকর্মী তানজিনা শারমিন, একাত্তর টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক পার্থ সঞ্জয়, সাংবাদিক ফারহানা ন্যান্সী ও নিউজ প্রেজেন্টার শান্তা শারলিন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র দেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
একাত্তর/এসি