এবার, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আটটি কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটে লেনদেন করা যাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। যাকে স্মার্ট হাট বলছেন উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সেসঙ্গে এবার আট ঘণ্টার মধ্যে উত্তর সিটির সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এজন্য উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সবার ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে, বনানীর হোটেল শেরাটনে 'স্মার্ট বাংলাদেশ স্মার্ট হাট' শিরোনামে পশুর হাটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন ব্যবস্থা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
আর মাত্র দশ দিন পরই ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ হলো পশু কোরবানি। এরই মধ্যে দেশের পাইকারি হাটে চলছে কোরবানির পশু কেনা বেচা। প্রস্তুতি চলছে হাট শুরুর।
এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বসবে ৯টি পশুর হাট। এরিমধ্যে গাবতলিতে স্থায়ী হাটের পাশাপাশি বাকী আটটি হাট ইজারার প্রক্রিয়া শেষ করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন।
উত্তর সিটির মেয়র জানান, ৯টি অস্থায়ী হাট এবং গাবতলী স্থায়ী হাট মিলিয়ে মোট ১০টি হাটের বাইরে আর কোনো হাট ডিএনসিসি এলাকায় থাকবে না।
তিনি বলেন, এর বাইরে কোথাও রাস্তা দখল করে হাট বসালে পুলিশকে বলা হবে ব্যবস্থা নিতে। অনুমোদন ছাড়া কোথাও যেন হাট বসতে না পারে।
এসব হাটগুলোতে থাকবে ডিজিটাল অর্থাৎ ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা। এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে ১০টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
ডিএনসিসির স্মার্ট হাট প্রসঙ্গে মেয়র আতিক বলেন, আটটি কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন ব্যবস্থা থাকবে। আর এই হাটগুলোই হবে স্মার্ট হাট।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজার খামারির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে লেনদেনের জন্য। টাকা নিয়ে হাটে যেতে হবে না, গরুর মালিকরাও বাড়ি ফেরার সময় সমস্যায় পড়বেন না।
মেয়র জানান, বিক্রেতাদের টাকার নিরপত্তা নিশ্চিত করতেই স্মার্ট লেনদেনের এই ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ক্রেতা বিক্রেতা সহজেই ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতে পারবে।
আর কোরবানির বজ্য সম্পর্কে মেয়র আতিক বলেন, এবার ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এসময় কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি মেয়র নিজেও মাঠে থাকবেন।
মেয়র জানান, বর্জ্য অপসারণে কাজ করবেন ১১ হাজার মাঠকর্মী। বিতরণ করা হবে ৯ লাখ পলিথিন ব্যাগ। বাতিল করা হয়েছে উত্তর সিটির সব কর্মকর্তা-কর্মচারির ছুটি।
তিনি বলেন, যারা কোরবানি করবেন সেসব নাগরিকদের জন্য ৯ লাখ পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ বিতরণ করব। এই ব্যাগে কোরবানির বর্জ্য রেখে দেবেন, সেগুলো আমরা অপসারণ করে নেব।
বরাবরেরর মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় থাকবে মৎস ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে টিম।
একাত্তর/এআর