ছোট্ট এক ঘরে ১২ বছর ধরে বন্দি এক যুবক!

জামালপুরে একটি ছোট্ট ঘরে ১২ বছর ধরে বন্দি আছেন এক যুবক। রকিবুল ইসলাম নামের এই মানসিক রোগীকে চিকিৎসা ছাড়াই জেলখানার মতো ঘরে বন্দি করে রেখেছেন তার ভাই। 

পল্লিচিকিৎসক ও কবিরাজ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়নি। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে রকিবুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে এলাকাবাসী। 

জামালপুর সদর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে জেলখানার আদলে তৈরি ছোট্ট এক ঘর। সূর্যের আলো ঢোকার ব্যবস্থা নেই, ঘরের ভেতরেই বাথরুম। এ ঘরেই ১২ বছর ধরে বন্দি রকিবুল।

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ধরা পড়ে তার মানসিক রোগ। ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছিলেন বাবা হায়দার আলী। বাবার মৃত্যুর পর কিছুদিন চিকিৎসা চালান সৎ ভাই রফিকুল। 

এক সময় চিকিৎসা বন্ধ করে শিকলে বেঁধে রাখেন রকিবুলকে, পরে বন্দি করেন ছোট্ট এই ঘরে। স্থানীয়দের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি একাই ভোগ করতে রাকিবুলকে আটকে রেখেছেন সৎ ভাই। 

তারা জানান, বাবা হায়দার আলী প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এরপর জন্ম নেয় রাকিবুল। ছোটকাল থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।


বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষাও নেন তিনি। পড়ালেখা করেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। ছোট বয়সে বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে পাগল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় তাকে।

বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা করান তার। বাবা মারা যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি জীর্ণশীর্ণ টয়লেটে বন্দি করে রাখা হয়েছে তাকে।

এরপর থেকেই ওই ঘরেই নাওয়া খাওয়া, প্রস্রাব পায়খানা সব কিছু করছেন তিনি। রাকিবুলের সাথে কথা বলে বুঝার উপায় নেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

তিনি তার নিজের নাম বলতে পারেন, বাবার নাম বলতে পারেন, নামাজ পড়তে পারেন, সুরা মুখস্থ পাঠ করতে পারেন। ঘরের ভেতর থেকে সবার সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেন রকিব। 

বদ্ধ ঘরে থাকতে তার ভীষণ কষ্ট হয় তাও প্রকাশ করতে পারেন। সৎ ভাই রফিকুল ইসলামের দাবি, পাবনা মানসিক হাসপাতালে সাড়ে তিন মাস চিকিৎসার পরও সুস্থ হয়নি রাকিবুল। 

আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ১২-১৩ শতাংশ: ইসি

তার সুচিকিৎসার দাবি জানান তার মা ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। জেলা মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। 

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ছেলেটির ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। যা চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, বিষয়টি এরই মধ্যে শুনেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, এছাড়া অভিযুক্ত রফিকুলের সঙ্গে কথা বলেছি। রফিকুলের দাবি, রাকিবুলকে অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। কিন্তু সে ভালো হচ্ছে না। তাই তারা তাকে আটকে রেখেছেন।


একাত্তর/আরবিএস