সরকারের বহুল আলোচিত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চলতি আগস্টের ১৭ তারিখ প্রাথমিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তবে অর্থের যোগান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা সাড়ে আট কোটি। এরমধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরকারি-আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। যারা চাকরি শেষে আমৃত্যু পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে প্রায় আট কোটি ৩৫ লাখ মানুষ বেসরকারি চাকরিজীবী বা কৃষিজীবি অথবা প্রবাসী। তাদের পেনশন সুবিধা বলে কিছু নেই। তাই দেরিতে হলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকারের সর্বজানীন পেনশন ব্যবস্থাপনাকে ইতিবাচক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহবায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে আমি দেখি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করছে, এটিকে অব্যাহতভাবে মনোযোগে রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এটি একটি জনগ্রাহী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, সেই জন্য তারা আলোচনার ভেতরে এটি রাখবেন। তবে দ্রুততার সাথে খুব বেশি বাস্তব অগ্রগতি আমরা প্রত্যাশা করি না।
আরও পড়ুন: ‘ভারত মনে করছে, শেখ হাসিনাই সরকার গঠন করবে’
এই ব্যবস্থায় কমপক্ষে ১০ বছর নির্দিষ্ট হারে টাকা জমা রাখতে হবে। ৬০ বছর পূর্তিতে পেনশন তহবিলে জমাকৃত টাকা ও সরকারের দেয়া মুনাফা সরাসরি যাবে গ্রাহকের একাউন্টে।
তবে পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়াদের সঞ্চয়কৃত টাকার রির্টান বেশি পেতে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, যারা প্রবাসে যাচ্ছেন, তারা সব টাকা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেন। তাদের টাকা খরচ হয়ে যায়। যখন ফিরে আসেন তখন তাদের হাতে আর কিছুই থাকে না। আগে থেকেই যদি তারা এই পেনশন স্কিমের ভেতরে পড়ে যান, তাহলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের চিন্তা করতে হবে না।
পেনশনধারী ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেল তার মনোনিত নমিনি পেনশন সুবিধা পাবেন।