সিলেট-৫ আসনের নির্বাচনী চিত্র

ভোটারদের মনে রয়েছে উন্নয়ন বঞ্চনার বেদনা

চারদিকে এতো উন্নয়ন অথচ উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনের ভোটরদের। এই সিলেট-৫ আসনের মানুষ ভেবেছিলেন এখানে ইকোনমিক জোন হবে, গ্যাস ফিল্ড চালু হবে, কানাইঘাটের রাস্তার সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও এর কিছুই হয়নি। 

এমন কি এখানে একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি। তাই ভোটাররা বলছেন, ভোট দেয়ার ব্যাপারে তারা এবার সাবধান হবেন। এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নিতে চান যিনি মুখের কথার সঙ্গে কাজেরও মিল করে দেখাবেন। 

সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে সিলেট-৫ আসন গঠিত। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী ভারত থেকে এই এলাকা দিয়েই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই, বন্যা ও নদী ভাঙ্গন এলাকার নিত্য সাথী। বিশেষ করে পাহাড়ি আর অতি বৃষ্টি নিয়ে আতঙ্ক সবার। 

উজানে বৃষ্টি হলেই সুরমা, কুশিয়ারা ও লোভা নদী উপচে বিভিন্ন এলাকা ভাসিয়ে দেয়। ফসল রক্ষা বাঁধ, রাস্তাঘাট তছনছ করে দেয়। এই বন্যার সাথেই যুদ্ধ করে জীবন চলে এই এলাকার মানুষদের। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয় বাসিন্দাদের। 

শুধু বন্যা নয়, জকিগঞ্জ থেকে কানাইঘাটের যাবার রাস্তার অবস্থা বেহাল। চলাচলের অনুপযোগী হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ভাঙ্গা রাস্তা দিয়েই গ্রামের মানুষদের চলাচল করতে হয়। এতে করে যেমন চলাচলে বেশি সময় লাগে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক। 

উজানের পানি বাড়লে ফসল রক্ষা বাঁধ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যে দূভোর্গ পোহাতে হয় এই এলাকার মানুষদের তা নিয়ে বারে বারে অভিযোগ জানানো হলেও কোন সুরাহা না হওয়ায় এলাকার জনপ্রতিনিধির উপরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 

সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে কয়েক মাস কিন্তু এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এই আসনে। আগামীতে কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন নিজ নিজ দলে। 

এই আসন এক সময় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার কোন প্রার্থীর নাম সামনে আসেনি। এমনকি নেই জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীও। তাই আসছে নির্বাচনে আবারও নৌকার জয় পাবার সম্ভাবনা। 


একাত্তর/এআর