দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় থাকা জয়পুরহাটের নুরজাহান বেগম হ্যাপী এবার সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। পৈত্রিক সূত্রে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সাবেক এই পৌর কাউন্সিলর আশা প্রকাশ করেছেন যে, তার বিগত দিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।
নুরজাহান বেগম হ্যাপী ১৯৮৯ সালে তার বাবা ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান আব্দুল হামিদের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত প্রতিটি লড়াইয়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিলো।
আন্দোলনের বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে জয়পুরহাটে পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাঁচতে তিনতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছিলাম। আমার মেরুদণ্ডের সেই ভাঙা হাড় আজও আমাকে সেই ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের নিষ্ঠাবান কর্মীদের অবদানের ফলেই আজ দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।
১৯৯৩ সালে ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক পদে থাকাকালীন জয়পুরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন হ্যাপী। দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, দল মনোনীত করলে নারী অধিকার রক্ষা এবং সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসী ও দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
