এডিস মশা নিধনে ব্যবহৃত জৈব কীটনাশক বিটিআই আমদানিতে কোন ব্যত্যয় আছে কি না জানতে চেয়ে আমদানিকারক মার্শাল অ্যাগ্রোভেটকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ওষুধটি মশার লার্ভা মারতে কার্যকর হলেও এটি সিঙ্গাপুর থেকে আনা হয়েছে কি না তা পরিষ্কার না। মেয়র জানিয়েছেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্বব্যাপী মশা নিধনে যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয় এরমধ্যে কার্যকরী ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ বলে পরিচিত বিটিআই নামক জৈব কীটনাশক। বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে এডিসের বিস্তার ঠেকাতে এই ওষুধ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় উত্তর সিটি।
দরপত্রের মাধ্যমে মার্শাল এগ্রোভেট কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয় বিটিআই আনার কাজ। শর্ত ছিলো ওষুধটি আনতে হবে সিঙ্গাপুর থেকে। উৎপাদক হিসেবে ওষুধের গায়ে লেখা বেস্ট ক্যামিকেলসের নাম। কিন্তু সিঙ্গাপুরের বেস্ট ক্যামিকেলস ফেসবুকে দাবি করেছে তারা মার্শাল এগ্রোভেট নামের কোন কোম্পানির কাছে বিটিআই বিক্রি করেনি। তাই প্রশ্ন উঠেছে ডিএনসিসি যে বিটিআই পেয়েছে সেটি আসলেই কার্যকর কিনা। যদিও পরীক্ষায় এই ওষুধে এডিসের লার্ভা ধ্বংসের চিত্র ধরা পড়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, পরীক্ষায় এডিসের লার্ভা ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে এবং এটি দ্রুত কার্যকর বলেও প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠে এই বিটিআই তাহলে কোন দেশ থেকে আনা হয়েছে। এতে দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না। মেয়র জানান, এ বিষয়ে মার্শাল এগ্রোভেটকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কোন ব্যত্যয় পাওয়া গেলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে ওই প্রতিষ্ঠানকে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার যদি আমাদের কোন সদুত্তর দিতে না পারে- আমরা অবশ্যই সেই আইনানুগ সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত যেসব ওষুধ আনা হয়েছে, তার টাকা ঠিকাদারকে দেয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু রোগী কমলেও শঙ্কা রয়েই গেছে
এদিকে ওষুধটি পরিবেশের কোন ক্ষতি করে কি না সেটি জানাতে আইইডিসিআরসহ অন্যান্য গবেষণাগারে ওষুধ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মার্শাল এগ্রোভেটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একাত্তর/আরএ