ঈদে মহাসড়কে নামানোর জন্য তৈরি হচ্ছে লক্কড়-ঝক্কড় বাস। সাভারের বিভিন্ন গ্যারাজগুলোতে চলছে ঘষামাজা। প্রায় দেড় হাজার অচল বাস ঈদের বাড়তি চাপ সামলাবে।
যাত্রীরা বলছেন, নজরদারি না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাসেই চলতে হয় তাদের। আর পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করতে নজরদারি বাড়ানো দরকার।
বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া এসব বাস এখন জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে সাভারের বলিয়ারপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্কশপে। এরপর রংয়ের প্রলেপ দিয়ে হয়ে যাবে চকচকে। অথচ এগুলোর বেশির ভাগেরই ফিটনেস নেই। কিন্তু তারপরেও এরা ঈদে দাপিয়ে বেড়াবে সারাদেশ।
শুধু এখানেই নয় আমিন বাজার, হেমায়েতপুর, নয়ারহাট, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২০টি গ্যারাজে মেরামত হচ্ছে ফিটনেসবিহীন বাস। কর্মচারীরা বলছেন, ২০ রোজার মধ্যে মালিকদের গাড়ি বুঝিয়ে দিতে হবে।
যাত্রীরা বলছেন, চোখের সামনে ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি মেরামত করতে দেখেন তারা। তারপরেও বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এসবেই চলাচল করতে হয়। তবে পরিবহন মালিকদের দাবি, গ্যারেজে মেরামত করা সব গাড়ির ফিটনেস আছে।
ঈদের আগে ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন, বলছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের আশ্বাস, ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: শফিক উর রহমান বলেন, তাদের নজরদারি ও কর্মতৎপরতা বাড়ানো দরকার। নিয়মঅনুযায়ী যা থাকা উচিত তার বাইরে যেন চলাচল করতে না পারে।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সাময়িক) বাবুল আকতার বলেন, নিশ্চিত থাকেন, যতোই কাজ করুক যতোই রং করুক, কোনো অবস্থাতেই এই গাড়িগুলো মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, গত বছর ঈদুল ফিতরে সারাদেশে ৫২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫২ জনের। আর এসব দুর্ঘটনার শিকার বাসগুলোর বেশিরভাগেরই ফিটনেস ছিলো না।