অসভ্যতাকে স্পষ্টভাবে না বলার সময় এখনই: মুশফিক

অসভ্যতা ও অভদ্রতাকে বাকস্বাধীনতা বলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও বাকস্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। 

সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে বাকস্বাধীনতা চর্চা ও সম্মানহানির বিষয়টি যখন সামনে আসছে তখন নিজের মতামত তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। 

সেই পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, “ব্যবহারে বংশের পরিচয়” কথাটি পুরোনো হলেও নির্মোহ সত্য। কিছু মানুষের ভাষা আচরণ আর মানসিকতা এমন এক অন্ধকারের ইঙ্গিত দেয়, যেন আমরা আধুনিকতার মুখোশ পরে জাহেলিয়াতের ছায়াতেই হাঁটছি। 

তার দৃষ্টিতে অসভ্য সেই মানুষদের সংখ্যা একেবারেই কম উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহলে তাদের কণ্ঠই যেন সবচেয়ে উচ্চস্বরে প্রতিধ্বনিত হয়। এই বিষাক্ত আচরণ শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বিদেশেও আমাদের একটি অসহিষ্ণু এবং অস্থির সমাজ হিসেবে তুলে ধরছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাম্য সালিশ, এক ধরনের অসুস্থ আগ্রাসন, অশ্রদ্ধা আর উগ্রতা চোখে পড়ে।

হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও জাতিসংঘের দীর্ঘদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সাবেক এই সাংবাদিক বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরকারের উদারনীতির সুযোগে বিকৃত তথ্য ছড়ানো, নোংরা ফটো কার্ড আর গুজব রটিয়ে চরিত্রহননেও মত্ত একটি গোষ্ঠী নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় সামান্য বাধাপ্রাপ্ত হলেই নেমে পড়ছে কল্পকাহিনির পসরা সাজিয়ে। ঝগড়া যেন এখন বিনোদন, রগচটা মানে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, আর বিশৃঙ্খলাই যেন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাহসের নতুন সংজ্ঞা।

সুনির্দিষ্ট সেই মহল সোশ্যাল মিডিয়ায় চলমান এই বিশৃঙ্খলতার মাঝে নারীকে টেনে আনছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলেন, নারীর মর্যাদা যেমন ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, তেমনি বিস্ময়কর, কিছু পুরুষ “শালীনতা”র দোহাই দিয়ে নিজের ভাষাকেই করে তুলছে সবচেয়ে অশালীন ও অশ্রাব্য। আবার আমাদের এ-ও দেখতে হয় যে, কোনো জায়গায় নারীও কোমর বেঁধে নেমে পড়ছে পুরুষের সাথে মল্লযুদ্ধে! আর সেখানের বীরপুরুষটিতো বেপরোয়া।

'ইজ্জত-আব্রু কি কেবল নারীর জন্য? অবশ্যই নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য। সময় এখনই, দেশে আইনি সংস্কারের পাশাপাশি নিজেদের মন-মানসিকতার সংস্কার এবং অসভ্যতাকে স্পষ্টভাবে না বলার, যোগ করেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।