বুধবারের মধ্যে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দিলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। একই দাবিতে বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেবে দলটি।
সোমবার (২২ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তাঁর সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব ঘোষণা দেন বিএনপির নেতারা। এই সমাবেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি জানান, ২৪ নভেম্বর সব জেলা পর্যায়ে দলের নেতারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবেন। এরপরও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন তিনি।
কর্মসূচি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং তাকে বাইরে বিদেশে পাঠাবো।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের সামনে একটাই পথ আন্দোলন, আন্দোলন এবং আন্দোলন। আন্দোলন আরও তীব্র করে সামনের দিকে বেগবান করতে হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমি আমার দলের ভাই-বোনদের বলতে চাই- হঠকারিতা করবেন না। অতীতে অনেক হঠকারিতার জন্য আমাদের মূল্য দিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: তৃতীয় দফার ইউপি নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সহিংসতা
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সমাবেশই প্রমাণ করেছে, আমাদের দাবি দেশের ১৬ কোটি মানুষের। বিএনপি চেয়ারপারসনকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তার চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এই সমাবেশ আরও প্রমাণ করেছে, এই সরকার কি ভয়ঙ্করভাবে আমাদের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিচ্ছে।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়াকে তাঁর উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নতুবা এ বিলম্বের কারণে আপনাদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।
এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল আটটা থেকে ব্যানারসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবে সমাবেত হন। মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একাত্তর/আরএইচ