নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায়
ছাত্রলীগকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
তারা বলছেন, এই অপশক্তি সরকার পতনের ডাক দিলেও দেশের মানুষ বরাবরের মতোই বিএনপি-জামায়াতকে আগামী নির্বাচনেও প্রত্যাখ্যান করবে।
রোববার (৩০ জানুয়ারি) ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল শাখাসমূহের বার্ষিক সম্মেলনে তারা এসব কথা জানান। এই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যোগ দেন।
দীর্ঘ ছয় বছর পর একযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলে ছাত্রলীগের সম্মেলন। নতুন নেতা নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা থাকলেও, করোনার বিধিনিষেধের কারণে সবাইকে ঢুকতে দেয়া হয়নি অনুষ্ঠানস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মাঠে।
নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের অপকর্মের কারণে সংগঠনে স্থবিরতা আর করোনা সংক্রমণের কারণে ২০১৬ সালের পর হলগুলোর আর সম্মেলন হয়নি। তাই এবার পদ প্রত্যাশীদের আগ্রহও বেশি।
অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া আওয়ামী লীগ নেতারা নতুন নেতৃত্বকে বলেন, যে কোন প্রয়োজনে সবার আগে হলের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। সেই সাথে, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে মাথায় রেখে বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ছাত্রলীগকে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেন তারা।
সম্মেলনের বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কারও দয়া বা কোনও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেননি।
তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন দেশে ফিরে গণতন্ত্র মানুষের দোরগোড়ায় ফিরিয়ে দেবেন। সেই সংকল্প নিয়ে লড়াই করেছেন তিনি।
বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে তাকে। তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছেন। কারও দয়ায় বা ষড়যন্ত্রে তিনি ক্ষমতায় যায়নি’।
আরও পড়ুন: করোনা শনাক্তের হার নামলো ত্রিশের নিচে, মৃত্যু আরও ৩৪ জনের
আর, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন হলেও যারা দাবি তুলেছিল তারাই মানতে চায় না।
ফখরুল ইসলামরাও বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবেন। আর সে জন্যই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারা।
নেতাদের নিদের্শ পালনের অঙ্গীকার করে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবার সুযোগ হলো।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১৮টি হলের ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হয়। তবে, পুর্ণাঙ্গ নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে কয়েকদিন পরে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে হল সম্মেলন শুরু হয়। এরপর দলীয় সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
আরও পড়ুন: সিনহা হত্যা মামলার রায় সোমবার, সর্বোচ্চ শাস্তির আশা পরিবারের
এসময় নিজ নিজ হলের নাম খচিত পতাকা উত্তোলন করেন ১৮টি হল ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা।
সম্মেলনকে ঘিরে হলের প্রার্থী-নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সম্মেলনকে ঘিরে সাজানো হয়েছে টিএসসি চত্বর।
একাত্তর/আরবিএস