বিএনপি কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি: ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাকে চিঠি দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি দাবি করেন, বিপুল অর্থ খরচ করে বিএনপি কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি, গুম-খুন বন্ধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। 

সাম্প্রতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থায় বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ। যা উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। 

সরকারের দাবি বিদেশে বিএনপির দেশ বিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবেই র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

বিএনপি দাবি করে আসছে, দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনের স্বার্থেই তাদের চিঠি। বরং সরকারই ভোটারবিহীন নির্বাচনকে বৈধ করতে জনগণের টাকায় বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। 

বিএনপির মহাসচিবের দাবি, বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তারা কোন ধরনের লবিস্ট নিয়োগ করেননি। 

তবে, দেশের বাইরে বিএনপির কোন শুভাকাঙ্খী যদি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং গুম খুন বন্ধে লবিস্ট নিয়োগ করে, তাতে নৈতিক সমর্থন দেবে বিএনপি। 

মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল জানান তিনি বিদেশে চিঠি লিখেছেন মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেশী-বিদেশী সব অংশীদারদের এই সরকারের সব অপকর্ম সম্পর্কে অবগত করে রাখতে চায়। বিদেশে লেখা আমার ওইসব চিঠি লবিস্ট নিয়োগের বিষয় নয়, মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান মাত্র।

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন সরকারের কয়েক জন মন্ত্রী। একটি চিঠির কপি দেখিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আপনারা দেখুন সেই চিঠি কাকে লেখা হয়েছিল এবং চিঠির বিষয়বস্তু কী ছিল’।  

তিনি আরো বলেন, আপনারা দেখছেন একজন প্রবাসী বাংলাদেশির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এই সরকার। আমরা বলতে চাই, দেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রবাসী কোনো পদক্ষেপ কোথাও নেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য যদি কিছু করেন, সে পদক্ষেপের দায়িত্ব তার, বিএনপির নয়। 

ওই পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থনের দায়িত্ব বাদে অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। তবে বিশ্বের দেশে দেশে প্রবাসীদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের দেশপ্রেমিক পদক্ষেপকে বিএনপি সাধুবাদ জানায় এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেয়া ব্যবস্থাকে ধামাচাপা দিতে কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকার জনগণের করের টাকায় আমেরিকায় লবিস্ট নিয়োগ করেছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকৃত। তার ভাষ্যমতে, সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। খুন, গুমের মত অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তির দায় কিংবা ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত প্রতিষ্ঠানের দায় রাষ্ট্র কিংবা সরকার কিভাবে জনগণের টাকায় ভাবমূর্তি রক্ষার নামে ব্যয় করে?

আরও পড়ুন: পুরান ঢাকার কেমিক্যাল সংশ্লিষ্টদের তালিকা তলব হাইকোর্টের

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭, এই ৩ বছরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংশ্লিষ্টতায় ৯০ লাখ ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলো বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে। যার প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েব পেজে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি জানতে চায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওই টাকার উৎস কী ছিলো, কিভাবে ওই টাকা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলো।