জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার প্রতিহিংসা থেকেই বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জেল দিয়ে আন্দোলন রোধ করা যায় কি না, আওয়ামী লীগ ভালো জানে। তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাকেও জেল দিয়ে তারা আন্দোলন বন্ধ করতে পারেনি।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। সেই সঙ্গে তারেক-জোবায়দার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহবানও জানিয়েছেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে প্রথমে কারাবন্দী করে, এখন তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে বিদেশে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে তার সহধর্মিণী যিনি রাজনীতির সঙ্গে একেবারে জড়িত নন, তিনি একজন পেশাজীবী মেধাবী চিকিৎসক। শুধু এই পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা নিয়ে আসা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
জোবায়দা রহমানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিষয়ে এক প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মূল ভয় ও আশঙ্কাটাই হচ্ছে জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে নিয়ে। এক-এগারো সরকারের সময় বলা হয়েছিল, মাইনাস টু, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঘটেছে মাইনাস ওয়ান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শুধু জিয়া পরিবারই নয়, যারা বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলকে দমন করার জন্য মামলাটাকে আওয়ামী লীগ অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে। দেশের মধ্যে একটা বিরাজনীতিকরণ অবস্থার সৃষ্টি করছে।
খালেদা ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার- এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, তারেক রহমান ও জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই সরকার মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। ১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির ১৯ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেট হচ্ছে বিএনপিকে নির্মূল করা।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তাদের টার্গেট হচ্ছে বিএনপিকে নির্মূল করা। সরকার বিএনপিকে নির্মূল করতে চাইলে কি হবে, মানুষ তো চায় বিএনপিকে। তাই শত চেষ্টা করেও বিএনপিকে রোধ করা যাবে না, এটা জনগণের দল।
বিএনপিকে নিয়ে জনগণ বিপদে আছে, ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কাকে নিয়ে বিপদে আছে, সেটা জনগণ বিবেচনা করবে।
আরও পড়ুন: দেশের মানুষ বিএনপিকে নিয়ে বিপদে আছে: কাদের
এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির সমাবেশে মানুষের অংশগ্রহণ ঠেকাতে আওয়ামী লীগ নগ্নভাবে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা। সব বাধা উপেক্ষা করেই সকল বিভাগেই বিএনপির গণসমাবেশ সফল হবে মনে করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
একাত্তর/আরএ