ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আপ্যায়নকে ‘খাইয়ে খোটা দেওয়া’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ডিবি অফিসে গয়েশ্বরের খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সেটি ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, শনিবারের ওই আপ্যায়নের ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচায়ক। এটাকে বলে খাইয়ে খোটা দেওয়া।
দুপুরে গয়েশ্বরের সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছু সময় সেখানে থেকে মির্জা ফখরুল চলে যান। পরে গয়েশ্বর রায় ডিবি কার্যালয়ে আপ্যায়ন প্রসঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। বিষয়টি তিনি তামাশা হিসাবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ডিবি প্রধানের এ আপ্যায়ন তামাশাপূর্ণ একটি নাটক। আপ্যায়ন করে সেটার ছবি ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া ন্যক্কারজনক ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড। যারা এ কাজটি করেছে এটি অত্যন্ত নিম্নরুচির, এক ধরনের তামাশাপূর্ণ নাটক।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এতে কী সরকার প্রমাণ করতে চায় যে আমরা হা-ভাতে? ভিক্ষা করে খাই? এটাকে গ্রামের ভাষায় বলা হয় ‘খাইয়ে খোটা দেওয়া’। ডিবি অফিসে আমার সঙ্গে যা করা হলো তা ওই রকমই। আমার বাড়িতে তো বিভিন্ন সময়ে অনেক লোক খায়।
তিনি জানান, ডিবির কার্যালয়ে তার জন্য হোটেল সোনারগাঁও থেকে আনা খাবার মুখে নেননি তিনি। সে খাবার না খেয়ে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের জন্য বাসা থেকে পাঠানো খাবারই খেয়েছেন। ওই খাবার আমার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী ছিল না।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ডিবি প্রধান হারুনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং সৌজন্য রক্ষায় তার জন্য বাসা থেকে নিয়ে আসা খাবার থেকে ভাতসহ হালকা সবজি ও রুই মাছের একটি টুকরা গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, ডিবিপ্রধান আমাকে অনুরোধ করেন, রুই মাছটি তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আর যেহেতু ডিবিপ্রধান নিজেই খাবারটি খাচ্ছেন, তখন আমার মনে হলো- এটা যদি গ্রহণ করি তাহলে সমস্যা হবে না।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের সময় পুলিশসহ সব বাহিনী ইসির অধীনে
উল্লেখ্য, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধোলাইখাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আহত হন। চিকিৎসাসেবা দিতে আহত গয়েশ্বরকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দুপুরে গয়েশ্বর রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। বিকেল তিনটার দিকে সেখানে গয়েশ্বরকে আপ্যায়ন করা হয়। তার সঙ্গে বসে খাবার খান ডিবি প্রধান হারন। এরপর তাকে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়।
একাত্তর/এসি