এবার খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এবার স্থায়ী মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইনি ‘জটিলতা’ থাকার কারণে তার মুক্তির আবেদনের চিঠিটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আর খালেদা জিয়া পক্ষে তার ভাইয়ের পাঠানো আবেদনটি ’অল্প সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই’ করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

দুইটি দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন। তার মুক্তির দুই শর্তে রয়েছেন, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না।

মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস পর পর বাড়ানো হয়। গত মার্চে সপ্তমবারের মতো আরও ৬ মাস বাড়ানোর পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর ছয় মাসের জন্য আরেকদফায় বাড়ানো হয়, যা কার্যকর হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে।

এদিকে ৭৮ বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেড় মাস ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হৃদরোগ, লিভারসিরোসিস, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।

তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করে দিতে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে।

এরি মধ্যে সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে হলে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তি আগে বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে সাঁজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এখন এ ব্যাপারে পরিবর্তন আনতে হলে, শর্তযুক্ত মুক্তি বাতিল করতে হবে। আগের অবস্থানে যাওয়ার পরে আবেদন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের তিনদিনের মাথায় নতুন করে আবেদনের বিষয়টি সামনে এলো।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিন থেকে কারাবন্দি হন তিনি। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আরও সাত বছরের সাজা হয়।

দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকে ২০২০ সালের মার্চে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তখন থেকে তিনি গুলশানের বাড়িতে রয়েছেন।

তখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর সরকার তাঁর সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।