দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। বিএনপির সাথে আন্দোলনরত গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা দলগুলোও এ কর্মসূচি পালন করবে।
এদিকে, তফসিল বাতিল করে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা না ছাড়লে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
বুধবার বুধবার সন্ধ্যায় আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তফসির ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল ঘোষণার পরপরই তা প্রত্যাখান করে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির পঞ্চম দফার অবরোধ শেষ হয় শুক্রবার ভোর ৬টায়। তার আগে বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় দলটি।
সরকার পতন এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর, ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে বিএনপি। ওইদিনই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আটক হন। একে একে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ ১৩ শ’র বেশি নেতাকর্মীকে কারাগারে নেয়া হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, অবরোধের থেকে সরে আবারও হরতালে ফিরলো বিএনপি।
গেল দুদিন কর্মসূচি না থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএনপি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই হরতাল অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে। এই দাবি জনগণের দাবি।
রিজভী জানান, ২৮ অক্টোবর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ২৯৬ মামলায় বিএনপির ১৩ হাজার ২১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । এই সময়ে কারাগারে থাকা বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জামিন পাননি ।
সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো সহিংস আন্দোলন চালাচ্ছে। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করার অবস্থানে অনড়।
একই দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে সেই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি গণফোরামের ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয়। ভোটে ভরাডুবি ঘটে বিএনপির। এরপর কারচুপির অভিযোগ তোলে তারা। সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন।
এবার ২০১৪ সালের মত একই দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। ফিরে এসেছে সংঘাতের পরিবেশ।
যানবাহনে অগ্নিংযোগ আর নাশকতার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। হরতালের আগে শনিবার রাতে রাজধানীতে দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।