‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’-এর অভিযোগে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে দুইজনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ, ফলে রোববারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করতে পারবেন না তারা।
আপিলে একজনের ‘দ্বৈত নাগরিকত্বে’র বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় ভোটের মাঠে টিকে রইলেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও নৌকা প্রতীকের শাম্মী আহমেদের প্রার্থিতা ফেরতের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পাকাপাকিভাবে আসন্ন ভোট থেকে ছিটকে গেলেন তিনি।
ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে গেলেন বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আপিল বিভাগও।
আর ফরিদপুর-৩ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ। আজাদের আইনজীবীর সময় আবেদন করলে শুনানি পিছিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে গাজীপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলম আহমেদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
শাম্মী আহমেদ প্রথমবারের মতো এবার বরিশাল-৪ আসনে নৌকার মনোনয়ন পান। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ আনেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ।
নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় শাম্মীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলেও আদালত কমিশনের আদেশ বহাল রাখে।
এরপর শাম্মী যান আপিল বিভাগে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ও প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশনা চেয়ে লিভ টু আপিল করেন। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির পর তার আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।
সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক।
নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে বরিশালের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। পরে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আব্দুল্লাহ। হাইকোর্ট ইসির আদেশ স্থগিত করলে সাদিকের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়।
এরপরই হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন জাহিদ ফারুক। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত। ফলে আবার আটকে যায় সাদিকেরে প্রার্থিতা।
সাদিক এবার চেম্বার আদালতের স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে লিভ টু আপিল করেন। তবে এই আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় পাকাপাকি ভাবে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি।
এদিকে ভোটের শুরু থেকে জটলা বেঁধেছে ফরিদপুর-৩ আসনে। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ।
তার অভিযোগ, শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। শুনানি শেষে শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন শামীম হক।
হাইকোর্ট শামীমের রিট খারিজ করে দিলে প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি যান আপিল বিভাগে। চেম্বার জজ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পান শামীম।
এবার চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন একে আজাদ। মঙ্গলবার সময় চাওয়ায় শুনানি পেছানো হয়। ফলে ভোটে মাঠে টিকে থাকলেন শামীম।