আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে হিসেবে দেশের যে কয়টি সংসদীয় আসন পরিচিত তার মধ্যে অন্যতম মাদারীপুর-৩। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সেই আসনেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচন ছয় প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠ জমজমাট করে তুলেছে নৌকা ও ঈগলের সমর্থকেরা। তাদের মিছিলে সরব মাদারীপুর-৩ আসন। একদল চায়, নৌকার মাঝি বদল। আরেক দল বলছে, নৌকার জোয়ারে ঈগলই উড়ে যাবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীই আওয়ামী লীগের। নৌকার আবদুস সোবহান গোলাপ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। গত নির্বাচনে নৌকার টিকিটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা সিদ্দিকী। তিনি কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য।
আড়িয়াল খাঁ নদীর কোল ঘেঁষে সদরের একাংশ, আর কালকিনি উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসন। স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, এই অঞ্চলে সমন্বিত উন্নয়ন হয়নি, হয়েছে একাংশের। তাই পুরো নির্বাচনী এলাকার একটি অংশ রয়ে গেছে অবহেলিত।
পদ্মা সেতুর কারণে রাজধানীর সাথে মাদারীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এই আসনে লাগেনি উন্নয়নের হাওয়া।
ভোটারদের অভিযোগ, বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান গোলাপ প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি।
আর এ কারণেই নদী ভাঙন থেকে রক্ষা, কালভার্ট ব্রিজ-নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন সাড়ে তিন লাখ ভোটারের আসন মাদারীপুর-৩ এর বাসিন্দারা।
কয়েকদিন আগেই ভোটের প্রচারে কালকিনি গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আর তার সফরকে কাজে লাগাচ্ছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকেরা।
ঈগলের সমর্থকরা বলছেন, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে হয়তো এখানে ভোট চাইতে আসতেন না আওয়ামী লীগের সভাপতি।
আর নৌকার সমর্থকরা বলছেন, শেখ হাসিনা ভোট চেয়েছেন, তাই নৌকাতেই সমর্থন দেবেন তারা।
নৌকা সমর্থক এক ভোটার বলেন, আমরা ১০০ শতাংশ নৌকা ঈগল পাখি চিনি না। ঈগল পাখি উড়িয়ে দেবো।
কিন্তু এক ঈগল সমর্থক বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাপকে অভিযুক্ত করে বলেন, সে আমাদের এলাকায় আসতো না। এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ দেখেন, কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি।
‘বর্তমান সংসদ সদস্য অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ করেননি,’ বলেন তিনি।
এদিকে নৌকার প্রার্থী প্রশ্ন তুলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে। তার দাবি, ঈগলের প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতায় হওয়ায় বিদ্রোহী হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।
তবে ঈগল প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে জানালেন আবদুস সোবহান গোলাপ।
তিনি বলেন, যেহেতু সে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের সভাপতি। বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের লোকজনও আছে তার সঙ্গে।
তাহমিনার বিরুদ্ধে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন গোলাপ। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর মানুষ বুঝতে পেরেছে তিনিই আসল প্রার্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা সিদ্দিকী বলছেন, তিনি নৌকার মনোনয়নই চাননি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পরিস্থিতি আর জনগণের দাবির মুখেই তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, আপনি বিশ্বাস করেন, আমার টাকা পয়সা নাই, আমি খরচও করি না।
‘প্রত্যেকটা ইউনিয়ন, তাদের খরচ, তারাই করছে। আমি টেরই পাচ্ছি না, তারা কোথা দিয়ে কি করে। আমি যেখানে যাই, রিকশাওয়ালা, চায়ের দোকানদারেরা আমাকে টাকা দেয়।’