বাজার অস্থিতিশীল করতেই বিএনপির ভারতীয় পণ্য বয়কট: কাদের

রাজনীতিতে দিশেহারা হয়ে এখন বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই বিএনপির ভারতীয় পণ্য বয়কটের আন্দোলনে শামিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ভারতের পণ্য যারা বয়কট করতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ তাদেরই বয়কট করবে।

শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, একটি দল কত দেউলিয়া হলে ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা বলে। অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্যই এই বর্জন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির একাংশ ভারতের পণ্য বয়কটের আওয়াজ তুলেছে। তবে দলের একটি বড় অংশ এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। বেজায় চটেছে শরিক দলগুলোও।

গত বুধবার রিজভীর হাতে থাকা একটি কাশ্মিরি শাল চাদর রাস্তায় ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘এই ভারতীয় পণ্য ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমিও আন্দোলনে শামিল হলাম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের বাস্তবতায় গায়ের থেকে চাদর খুলে ছুড়ে ফেলে দেওয়া একটা অবাস্তব কাজ। আমাদের বাজারে ভারতের পণ্যের একটি বড় অংশ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টের একটি একটি পাঁয়তারা।

আর এ পদক্ষেপ বিএনপির পরাজয়ের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বিএনপি রাজনীতি এখন এলোমেলো গোলমেলে। বিএনপি আসলে কোন পথে চলছে সেটা তারা নিজেরাই জানেনা। পথ হারা হয়ে যা খুশি তাই বলছে। যা খুশী তাই করছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির বয়কটের ডাকে বাংলাদেশের মানুষ সাড়া দিবে না। আর এদের উদ্দেশ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বিএনপির অনেক ‘অশুভ কাজ ও অশুভ আন্দোলনে’  আওয়ামী লীগ বিচলিত হয়নি এবং এখন তাদের কোনো ডাকে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সব সময় ছিলো। পাকিস্তান আমলে ভারতের এজেন্ট বলা হতো। এখনও তাই বলা হয়।

তবে ভারত বিরোধিতার কথা বলে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস চলে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা।

তিনি বলেন, যখন কোনো ইস্যু থাকে না, তখন ভারত বিরোধিতাকে একটা ইস্যু হিসেবে   সামনে আনা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।

আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময় এবং সমুদ্র সীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির কাজ চলছে। আর ভারতের সাথে ততটুকু তো থাকবে, যতক্ষণ আমাদের জাতীয় স্বার্থ বজায় থাকে।

এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে আগামী ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ।