লু’র বার্তায় বিএনপির আশায় গুড়েবালি: হাছান

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফরে যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে বিএনপির আশার গুড়ে বালি পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার  জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডোনাল্ড লু ঘুরে যাওয়ার পর বিএনপি নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের আশায় গুড়ে বালি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিয়ে গেছে যে, তারা সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।

বিএনপি এখন খেই হারিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, বিএনপির কোনো আশার আলো নেই। বিএনপিকে অনুরোধ দেশবিরোধী আন্দোলন করে লাভ হবে না।

দুই দিনের ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

সরকারের কয়েকজন নীতি নির্ধারকের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে তাকাতে চাই। পিছনের দিকে নয়।’ঢাকা সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক পুনর্গঠনেই তার সফর বলে জানান লু।

lu1

গত জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার এটিই প্রথম সফর।

তবে এবারের সফরের শুরু থেকেই সরকার ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হয়েছে লুকে; নির্বাচনের আগে যখন একাধিকবার ঢাকা সফর করেছিলেন, তখন অবশ্য এমনটি দেখা যায়নি। তাকে নিয়ে তখন সরকারবিরোধীরাই বেশি মাতামাতি করেছিল।

এবার চিত্র পাল্টে যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে যে, ডোনাল্ড লুর সফর নিয়ে তারা উৎসাহী নয়।

বিএনপি নেতাদের ইঙ্গিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওনারা আশা করেছিল কিনা কী বলে! অনেক চেষ্টাও করেছিল দেখা সাক্ষাৎ করার জন্য। কিন্তু তাদের আশায় গুড়েবালি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিয়ে গেছে— তারা সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চায়, সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমরাও সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

আর এজন্যই বিএনপির নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে এবং এখন তারা নানা ধরনের কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

lu5

হাছান মাহমুদ বলেন, এতে বিএনপিরই ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই বিএনপি শক্তিশালী হোক। কারণ, শক্তিশালী বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।

প্রেসক্লাবে এদিনের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন (১৯৮১)’ উপলক্ষে। আয়োজন করে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি ও সাপ্তাহিক জয় বাংলা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মে ১৯৮১ সালে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, মা- বাবা-ভাইকে হারিয়ে দেশের মানুষকে আপন করে নিয়ে পথ চলতে চাই, শেখ হাসিনা তাই করে চলেছেন।

তিনি বলেন, তার এই পথযাত্রায় বহু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন— জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া। কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই। শেখ হাসিনা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়েছেন। দেশকে আরও যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে এ দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা, অন্য কেউ না।