বাজেটের নামে করের বোঝা চাপাচ্ছে আওয়ামী লীগ: ফখরুল

দুর্নীতি করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পর এবার আওয়ামী লীগ বাজেটের নামে মানুষের ওপর করের বোঝা চাপাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

রোববার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে  ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের ভিত্তিই হলো দুর্নীতি আর সন্ত্রাস। এরা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না৷ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে তারা, তাই তাদের মুখে গণতন্ত্র শব্দটি মানায় না। 

প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে বিক্রি করছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে পরনির্ভর করে দিয়েছে। এবার তারা মানুষের ওপর বাজেটের নামে করের বোঝা চাপাচ্ছে। 

অন্যদিকে, বিএনপি সবসময় মানুষের উপর যেন করের বোঝা না বাড়ে তা বিবেচনায় নিয়ে হিসেব করে বাজেট দিতো বলে দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশটাকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে সরকার। দেশের সকল কাঠামো ধ্বংস করেছে। আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করেছে। আজকে আওয়ামী লীগ না করলে কারো চাকরি হয় না। তাদের মিথ্যা বলায় জুড়ি মেলা ভার। এরকম একটি দল দেশ ও জাতির জন্য বড় সমস্যা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় ‘বাংলাদেশে বিজ্ঞান গবেষণা ও শিক্ষিত জাতি গঠনে শহীদ জিয়া’ এবং ‘জিয়াউর রহমান : ক্রান্তিকালের ত্রাণকর্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি’ শীর্ষক দুইটি প্রবন্ধ উপস্থাপনও করা হয়।

এদিকে একই দিন বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে করেছে বিএনপি।

এসময় সংগঠনটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছে। এমন সরকারের বাজেট ঘোষনার নৈতিক অধিকার নেই। সাধারন মানুষকে শোষনের হাতিয়ার এই বাজেট। 

তিনি বলেন, এই বাজেট ফোঁকলা অর্থনীতির উপর দাঁড়ানো কল্পনার ফানুস। এই বাজেট করনির্ভর, ঋননির্ভর, লুট করার। বাজেটে সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।। এই বাজেটে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, এই বাজেটে কালো টাকার ঢালাও দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। এতে দুর্নীতিকে সরকারিভাবে লাইসেন্স দেয়া হলো।

সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৯৭ শতাংশ অর্থই আনতে হবে ঋণ করে। উন্নয়নের নামে  ঋণের ফাঁদে জর্জরিত করছে দেশকে। আওয়ামী অর্থনীতির বেলুন ছিদ্র হয়ে গেছে। রিজার্ভ সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার কোনো রোডম্যাপ দেয়া হয়নি। 

এই বাজেট বিএনপি প্রত্যখ্যান করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো বাজেটটাই ভিক্ষার ঝুলির ওপর নির্ভর করে। দেশি-বিদেশি ঋণের বাজেট এটি। অথচ বিএনপি আমলে কখনো অর্থনীতির দূরাবস্থা ছিলোনা। সামষ্টিক অর্থনীতি সবসময় বিএনপির শাসনামলে ভালো ছিল।