একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আইনগত বিষয় ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে এবার জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে কখনোই আর ‘ফাঁকফোকর’ গলে তারা বের হতে না পারে।
সোমবার রাতে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়।
সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তাণ্ডব ও নাশকতা চালানোকে জঙ্গিবাদী কাজ উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, জামায়াত-শিবির, বিএনপির জঙ্গিরা আজকে আমাদের ওপর থাবা দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ওই শিবির, ছাত্রদল, বিএনপি-জামায়াত; এরাই কিন্তু এবং জঙ্গি... এই জঙ্গিরাই কিন্তু আজকে আমাদের ওপর থাবা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার। আর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হবে, তার আইনগত দিক দেখেশুনে সরকার শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
‘কারণ, আমরা আইনগত ভিত্তি ভালভাবে দেখে নিতে চাই। যাতে কোন ফাঁকফোকর দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এই অপশক্তি আর কোনো সুযোগ না পায়।’
স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু পরে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের সময় আবার রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায় জামায়াত।
এরপর প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার পর সে দাবি আরো জোরালো হয়।
যুদ্ধাপরাধীরে বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারায় দলটি। এরপর গত তিনটি নির্বাচনে ভোটে অংশ নিতে পারেনি জামায়াত।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন নজির আছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হিটলারের নাৎসি পার্টি রাজনীতি করতে পারে না জার্মানিতে’ বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক, জামায়াতে ইসলামীকে দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ আছে। মূলত জামায়াত ধর্মের মুখোশপড়া সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।
‘নানান সময় তাদের দারা প্রকাশ ও গোপনে নানা অপতৎপরতা, নাশকতা, ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেশের জনগণও সেটা অবহিত,’ যোগ কাদের।
বলেন, গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠকে, সেখানে শরীক দলগুলোর বক্তব্য, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, দলটির অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সময় দেয়া আদালতের রায়- ইত্যাদি বিবেচনায় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে ১৪ দল সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।