জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চব্বিশকে হারিয়ে দেওয়ার কসরত করা হচ্ছে। আল্লাহর কসম, জীবন দেবো তবুও চব্বিশকে হারিয়ে যেতে দেবো না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে ‘হীনমন্যতার পরিচয়’ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে এর তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশকে স্বীকার করতে এতো হীনমন্যতা কেন? চব্বিশ না হলে আমি বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, তারেক সাহেবও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। অথচ অনেক এমপি, মন্ত্রী জুলাইকে হেয় করে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের সবচেয়ে বড়ো চাহিদা ছিলো রাষ্ট্র সংস্কার। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে গোঁজামিল দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বলেন গণভোটের চার প্রশ্ন নাকি জনগণ বোঝে না, তাহলে তারা ৩১ দফা বুঝবে কী করে? অনেক মন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অনেককিছু মেনে নিয়েছেন বলে বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বলার মাধ্যমে তারা জাতির সাথে প্রতারণা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচন কীভাবে হয়েছে জাতি জানে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাক আউট করে কী করা হয়েছে, তা জনগণ বোঝে এবং এর জন্য রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে, কোনো অসুবিধা নাই। এর ফল আপনারা পাবেন। ইতিহাস এটাকে অবশ্যই পর্যালোচনা করবে এবং যার যার পাওনা সময়মতো পেয়েও যাবেন।
সংবিধান সংশোধন কমিটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সংসদে কিছু অবৈতনিক শিক্ষক আছেন, যারা আমাদের অনেক সংবিধান শেখান। তাদের হাবভাব এমন যে, দুনিয়ার সব কিছু তারা বোঝেন। যদি সংবিধান সংশোধন কমিটি বলতে কিছু না থাকে তবে এটা কেন? এটার কারণ—এর মাধ্যমে জুলাই ও গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে গণভোটের রায় বৃথা যাবে না, সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে সমাধান হবে।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও জামায়াত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যসব দলকে পছন্দ করলেও আমাদের করে না। তারা বলেছে, ভারতে সব দলকে আমন্ত্রণ, শুধু জামায়াতে লাল কার্ড। আমরা এই লাল কার্ডকে পরোয়া করি না। আমাদের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমাদের কোনো পিসি-খালার দেশ নাই, আমাদের দেশ বাংলাদেশ। আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সৎ ও পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি জনগণের অভিপ্রায়ে চলবে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ অংশে জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহতদের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্র না নেয়, তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। সরকারকে অবিলম্বে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি।
