আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিল চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেবেন বলে দিন ঠিক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মাহবুব উল ইসলামের নেতৃত্বে দ্বৈত বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বেশ কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরে রিটটি চলতে পারে না বলে মত দেন।
তিনি বলেন, রিটে চাওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার তিন বছর থাকুক। কিন্তু আদালত নির্ধারণ করতে পারেন না যে, অন্তর্বর্তী সরকার কতদিন থাকবে৷
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যক্তির অপরাধের দায় সংগঠন নিতে পারে না। সেক্ষেত্রে তাদের বিচার আইন অনুযায়ী হবে।
'নিবন্ধন নিষিদ্ধ সংবিধান পরিপন্থি। একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে না,' যোগ করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, সংবিধান সমুন্নত রাখতে চায় সরকার। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে সরকারের নেই।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মুরাদ ভূঁইয়া রিটটি করেন।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল ছাড়াও ওই রিটে, যে সব প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনার নামে রয়েছে, সেগুলোর নাম পরিবর্তনও চাওয়া হয়েছে।
একই রিটে দেশ সংস্কারের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ সর্বনিম্ন তিন বছর চাওয়া হয়।
সেই সাথে বিদেশে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তাদের বদলি চাওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত পাঁচ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, অপহরণ. মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে।