মন্দির ভেঙ্গে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগই: বিএনপি

আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণে অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায়নি বলে বলে মন্তব্য করেছন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এখনও কিছু মানুষ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেছেন, আওয়ামী লীগের লোকজনই মন্দির ভেঙ্গে দেশের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব-উত্তর শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তারেক রহমান বলেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। গত ১৫ বছর ধরে মাফিয়া সরকার সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সব ধর্মের মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছিল। তিনি জনগণের কষ্ট লাঘব না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে উল্লেখ করেন।

সভায় রাজনৈতিক সংহতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সম্মানজনক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের আমলে হিন্দুদের ওপর জুলুম-নিপীড়নের কথা তুলে ধরেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মের নামে ব্যবস্যা করেছে। জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি আমলে মন্দির পাহাড়া দেয়া লাগতো না। এখনও দেশে এমন পরিস্থিতি নেই। হিন্দুদের উৎসব এলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশে বিভাজন সৃস্টি করেছে আওয়ামী লীগ।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কারণেই দেশ অসাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠেনি। শত উস্কানি প্রতিহত করে সব ধর্মে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করাই বিএনপি মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, মহাসচিব এস এন তরুণ দে, উপদেষ্টা অ্যালবার্ট পি কষ্টা, মনি স্বপন দেওয়ান, অধ্যক্ষ গণেশ হাওলাদার, ভাইস চেয়ারম্যান অর্পনা রায় দাস, নিতাই চন্দ্র ঘোষ, দেবাশীষ রায়সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।