ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে দলগুলো সঙ্গে আলোচনার তাগাদা

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করে নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হয়েছে, সেটিকে ভালো চোখে দেখছে না রাজনৈতিক দলগুলো। এমন সিদ্ধান্তে সরকারের সাথে দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তাই নির্বাচনের মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলগুলোর সাথে আলোচনার তাগিদ দিচ্ছেন নেতারা। সেই সঙ্গে সরকারি আনুকুল্যে নতুন দল তৈরি হলে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। 

২০২৫ সালের শেষে অথবা ২৬ সালের প্রথমার্ধে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহামম্দ ইউনুসের এমন ঘোষণার পরদিন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন হতে পারে ২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে। তাঁদের এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনকারী দলগুলোর নেতারা বলছেন, চলমান সংস্কার কাজগুলো শেষ হতে তিন থেকে ছয় মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়। আর সে কারণেই নির্বাচনের জন্য ঘোষিত এই সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তিনি জানান, দলগুলোর সাথে নানা বিষয়ে সরকারের সংলাপ হলেও, নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে কোন আলোচনা বা মতামত নেয়া হয়নি। আমরা মনে করি এই সরকারের পক্ষে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা তিন মাস সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিবসহ দলটির শীর্ষ নেতারাও বলছেন, দেশের সব সংকট মোকাবেলায় এরইমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যমত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন প্রলম্বিত হলে সেই ঐক্যে ফাটল ধরার শঙ্কা দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক সংকট মোকাবেলায় ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন করতে চাইলে দলগুলোর কোন আপত্তি থাকতো না। প্রলম্বিত নির্বাচনের সময়সূচি বরং সন্দেহ তৈরি হবার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন এই বিএনপি নেতা। 

সরকারি আনুকুল্যে কেউ নতুন দল গঠন করলে; নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবার আগে সব পক্ষেরই সতর্কতা আশা করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সংস্কার একটি ধারাবাহিক ব্যাপার। প্রাথমিকভাবে যেটুকু দরকার, সেটুকু সংস্কার করেই নির্বাচনের দিকে যাওয়া উচিত।