নতুন রাজনৈতিক দল আসছে ২৮ ফেব্রুয়ারি

জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করবে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটায়। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে তরুনদের এই দলটি আত্মপ্রকাশ করবে। শুরুতে আহবায়ক কমিটি গঠন করলেও পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের কমিটি দেওয়া হবে। আর জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দলের নামকরণও করছেন তারা।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গেলো বছরের জুলাই থেকে সারাদেশে আন্দলোন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলোন নামের সংগঠন এই আন্দলনে নেতৃত্ব দেয়। যেখানে সব দল-মত-সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে স্বৈরাচার হাসিনাকে বিতাড়িত করে।

পরে আন্দলোনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির নামে আরেকটি সংগঠনও আত্মপ্রকাশ করে।

এই দুটি সংগঠন সম্মিলিত হয়ে ঘোষণা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের। দল গঠনের আগে সারাদেশে জরিপ করেন তারা। সেখানে জনগণ মতামত দেয় কেমন হওয়া উচিত দলের কাঠামো।

সংগঠনের নেতারা জানান, জনতার দল, জনতার শক্তি, রিপাবলিক পার্টিসহ কয়েকটি নাম জনগণের থেকে পাওয়া গেছে। সেদিক থেকেই রাজনৈতিক দলের নামকরণ করা হবে। মার্কাও থাকবে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন,  নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। সবচেয়ে বড় অনুধাবনটি হচ্ছে সেই ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশের আমরা যে স্বপ্নগুলো দেখেছি, এই জুলাই স্পিরিটকে সামনে রেখে। নতুন বাংলাদেশ যে জায়গায় কল্পনা করেছি, তা একটা দীর্ঘ লড়াই। হাজারো শহীদের জীবনের উপরে, অর্থাৎ লাখো ভাই-বোনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে বাংলাদেশ‌, আগামী প্রজন্মকে সেই বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের কাছে একটি আমানত।

সারজিস আলম বলেন, যুগের পর যুগ ধরে এই সংসদ ভবনকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক না বানিয়ে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে পলিসি মেকিংয়ের জায়গা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। জায়গাটিকে স্বৈরাচারের উৎপাদন ক্ষেত্র বানিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলে ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীর স্বার্থ, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে। আমরা আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলের শপথটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে প্রতীক সেই জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে এই শপথটি করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ জাতীয় নাগরিক কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।