একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন, জুলাইয়ের চেতনার রাজনৈতিক দল- জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র নেতারা। তাদের মতে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
একাত্তর টেলিভিশনকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এনসিপি’র নেতারা দাবি করেছেন, জামায়াতে নতুন প্রজন্ম এই ইস্যুর মীমাংসা চায়। এছাড়াই, শাহবাগের গণজমায়েতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেয়ার সাথে এনসিপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেছেন দলটির নেতারা।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে, আন্দোলন চলার সময় সময়ে রাজপথে জামায়াতের একাত্তরকে পাশ কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টিও প্রত্যক্ষ করেছেন এনসিপির নেতারা। তাদের স্লোগানেও উঠে আসে একাত্তর বিরোধী অবস্থান।
তাই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ গণহত্যায় দলটিকে রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহবান জানান এনসিপির নেতারা। মুক্তিযুদ্ধে যারা মুক্তিকামী মানুষের পক্ষ না নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছেন, স্বাধীনতা চাননি তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বাধীন দেশকে মেনেই রাজনীতি করার আহবান জানিয়েছেন তারা।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন একাত্তরের চেতনা ছিলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভিত্তি এবং একাত্তরের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান তারা। তাই একাত্তর প্রশ্নে কোন ছাড় দেবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি।
তারা বলেন, ১৯৪৭ সালের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এবং ১৯৭১ এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এসেছে। তাই মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করেন এনসিপির নেতারা। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াত রাজনীতির সুযোগ পায়। নতুন প্রজন্ম একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যুর মীমাংসা চায়। তাই তাদের ইতিহাসে পেছনে ফিরে যাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন তারা।
শাহবাগে গণজমায়েতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাঁধা দেয়ার সাথে এনসিপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেছেন দলটির নেতারা। মুজিববাদী ও জামায়াতের আদর্শের বাইরে, রাজধানী ঢাকাকে তাদের রাজনীতির সেন্টার বানাতে চায় এনসিপি।