মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে অনেক জটিলতা আছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এসব জটিলতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে ধৈর্য ধরা উচিত।
সোমবার (১ি৯ মে) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, আইনি জটিলতার কারণেই ইশরাকের শপথ পড়ানো আটকে আছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে অনেক আইনি সমস্যা ও মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা আছে। জটিলতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
নগরবাসীর ভোগান্তি নিরসনে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নগর ভবনের সামনে যারা আন্দোলন করছে, তারা এক ব্যক্তির সমর্থক। আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। উচ্চ আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান তিনি।
এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দাবিতে নগর ভবনে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, গায়ের জোরে নগর ভবন বন্ধ করে বিএনপি আন্দোলন করছে।
পোস্টে একটি ছবি যুক্ত করে উপদেষ্টা লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে ইশরাকের এই আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক কার্যক্রমের কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না! আবার কেউ বলবেন না যে এটা সাধারণ জনগণ করছে; কারণ, বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন গ্রুপের নির্দেশনা এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দলীয় নেতা-কর্মীরাই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে দায়িত্বে কেন বসানো হচ্ছে না তা ব্যাখ্যা করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। তিনি লেখেন, প্রথমত, আরজি সংশোধন অবৈধ মর্মে হাইকোর্টের রায় ভায়োলেট করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রদান করেছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন শুনানিতে অংশগ্রহণ না করায় একপাক্ষিক রায় হয়েছে এবং পরবর্তীতে কমিশন আপিলও করেনি।
তৃতীয়ত, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলেও মতামত দেওয়ার আগেই এবং একই সাথে দুইজন নাগরিকের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ উপেক্ষা করে রাত ১০টায় গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। চতুর্থত, উক্ত মামলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ পক্ষভুক্ত ছিল না এবং রায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতি কোনো নির্দেশনার উল্লেখ নেই।
পঞ্চমত, শপথ না দেওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার বিভাগকে বিবাদী করে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে, যা এখনো বিচারাধীন। ষষ্ঠত, বরিশাল সিটি করপোরেশন–সংক্রান্ত মামলায়, আরজি সংশোধন–সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়কে আমলে নিয়ে খারিজ করেছে ট্রাইব্যুনাল। ফলে ট্রাইব্যুনালের দ্বিমুখী অবস্থান বোধগম্য হচ্ছে না।
সপ্তমত, মেয়াদ–সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে; কত দিন মেয়র থাকবেন বা আদৌ মেয়াদ আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অষ্টমত, নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে কোনো প্রকার আইনি জটিলতা না থাকলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। স্পষ্টতই বিতর্কিত রায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতি কোনো নির্দেশনা না থাকা, লিগ্যাল নোটিশ এবং রিট পিটিশন বিচারাধীন থাকা–সংক্রান্ত আইনি জটিলতা রয়েছে।
নবমত, এই জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। দশমত, আওয়ামী আমলে অবৈধ নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেওয়ার প্রশ্নও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি স্বীকার করে যে আওয়ামী আমলের নির্বাচনগুলো বৈধ, তবে সরকারের জন্য এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না।
উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং উল্লেখিত এসব জটিলতা নিরসন না করা পর্যন্ত শপথ গ্রহণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বরং গায়ের জোরে আদায় করার উদ্দেশ্যেই নগর ভবন বন্ধ করে মহানগর বিএনপি এই আন্দোলন চালাচ্ছে।
ফলে সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়াসহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব জটিলতা নিরসন হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের শপথ দিতে কোনো সমস্যা নেই বলেও উল্লেখ করেন এই উপদেষ্টা।