নির্বাসন-সংগ্রামের দেড় যুগ: তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দেশ

রাজনীতির পথ সব সময় সহজ হয় না। কিছু পথ গড়ে ওঠে সময়, সংকট আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। তারেক রহমানের রাজনীতি তেমনই এক দীর্ঘ পথচলার গল্প। দেড় যুগের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে অবশেষে দেশে ফিরেছেন তিনি। সামনে বাংলাদেশ ও বিএনপির জন্য নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। 

দীর্ঘ ১৮ বছর। সময়ের হিসেবে অনেকটা পথ, ইতিহাসের এক গভীর অধ্যায়। তবে, সব শঙ্কা-অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন এক সকালের সাক্ষী বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে রাজনীতির বরপুত্র তারেক রহমান। 

একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০০৭ -এ ওয়ান ইলেভেনে ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের পর সেনাসমর্থিত সরকারের রোষানলে পড়তে হয় তরুণ নেতা তারেক রহমানকে।

অমানবিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে মা বেগম খালেদা জিয়ার অনুরোধে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। সে বছরই ক্ষমতায় এসে, ধীরে ধীরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভবিষ্যৎ নেতাকে দেশে আসতে নানা কূটকৌশল করতে থাকে আওয়ামী লীগ।

তারেক রহমানের শুরু হয় এক দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন। পরিবার আর মাতৃভূমির মাটি থেকে অনেক দূরে, বিচিত্র নগরী লন্ডনে শুরু হয় জীবনের নতুন এক অধ্যায়। 

প্রবাসে থাকলেও দেশ ও দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না তারেক রহমান। সবশেষ ২০১৮ সালে মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। 

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার আর দমন-পীড়ন এমন বাস্তবতায় প্রবাস থেকেই দলের ভার বহন করেছেন। হয়ে উঠেছেন আন্দোলনের নেপথ্য কৌশলবিদ, সংগঠনের ঐক্যের প্রতীক, আর নেতাকর্মীদের জন্য এক সাহসের নাম। জুলাই অভ্যুত্থানেরও অগ্রনায়ক বিএনপির এই আইকনিক নেতৃত্ব। 

তারেক রহমান রাজনীতির উত্তরাধিকার পেয়েছেন শৈশব থেকেই। রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় সংগঠনের ভেতর দিয়ে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে।

নব্বই দশকের শেষ সময় থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সংগঠন শক্তিশালী করার কৌশল-এসবের মধ্য দিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে। 

২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দলীয় রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়। এই সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার ফেরা নয়। এটি নতুন দিনের ইঙ্গিত। অভিজ্ঞ আর শক্তিশালী নেতার অভাবের দিনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সম্ভাবনা। আর নতুন সূর্য ওঠার গল্প।