ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং ঢাকা-৯ আসনে দুই আলোচিত নারী প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও তাসনিম জারার প্রতীক লাভ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। বুধবার দেশজুড়ে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়েছেন রুমিন ফারহানা এবং চিকিৎসক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা।
সমর্থকদের পছন্দের ‘হাঁস’ পেলেন রুমিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাঁকে এই প্রতীক দেওয়া হয়।
এর আগে মনোনয়ন জমা দিয়ে ফেরার পথে সমর্থকদের ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বুধবার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি সহজেই এই প্রতীকটি পান।
প্রতীক পাওয়ার পর রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গণসংযোগে তিনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এই আসনের দিকে থাকবে। আমি আশা করি প্রশাসন নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনকে কালিমামুক্ত রাখবে।
এই আসনে বিএনপি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ের জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিলেও রুমিন ফারহানা এবং বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা তরুণ দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় লড়াই জমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
‘ফুটবল’ প্রতীকে উচ্ছ্বসিত তাসনিম জারা
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ঢাকা-৯ আসনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাকে ‘ফুটবল’ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে যাওয়া তাসনিম জারার মনোনয়ন শুরুতে বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।
প্রতীক পাওয়ার পর তিনি বলেন, ভোটাররা প্রতীকের অপেক্ষায় ছিলেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমি বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারে নামব। ঢাকার ১৩টি আসনে মোট ১৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বিতরণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
ইসি তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এবার ৫৬টিসহ মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে আচরণবিধি মেনে চলা এবং অসংলগ্ন আচরণ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে এই আলোচিত প্রার্থীরা ভোটারদের কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পারেন।