বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জামায়াতের আমির মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে এতো জ্ঞান রাখে, সেটা আগে তো জানতাম না। উনার যে এতো জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি। আশা করি উনি আরও কিছু বলবেন আমাদেরকে, মুক্তিযুদ্ধে আর কী কী হয়েছিলো, ওগুলো তো বলতে পারেন, তাই না!
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় ‘বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক গোলটেবিল আলোচনার শেষে স্বাধীনতার ঘোষণায় অলি আহমদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যে মন্তব্য করেছেন, তার সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জামায়াত ইসলামীর থেকে কেউ জানতে চায় না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব নিয়ে কথা বলে নতুন বিভক্তি তৈরি করতে চাচ্ছে জামায়াত।
এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম শহরের বন্দর কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় স্বাধীনতার ঘোষণায় জোটসঙ্গী এলডিপি প্রধান অলি আহমদের ভূমিকা বড়ো করে তুলে ধরে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
ওই জনসভায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী নয়। এটি একটি সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে একাত্তরে সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকে হয়েছিলো।
আমিরে জামায়াত বলেন, আপনাদেরেই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিল, ‘উই রিভল্ট’। তিনি হচ্ছেন, এলডিপির সম্মানিত সভাপতি ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এরপর জামায়াত আমির বলেন, চট্টলাবাসী আপনাদেরকে স্যালুট, এই গর্বিত ইতিহাসের আপনারাই সূচনা করেছিলেন।
কেন তিনি (কর্নেল অলি) আজকে আক্ষেপ করে বলেন, আমি লড়াই করেছি রণাঙ্গনে। জাতীয়তাবাদী দল গঠনে আমি ছিলাম দ্বিতীয় ব্যক্তি, জিয়াউর রহমানের পরে। তিনি এখন বলেন, আমি এখন বিএনপিতে নেই। আমি থাকতে পারি না, কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়। তিনি বলেন, এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়।
এসব খবরের সূত্র ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। তখন আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তো জামায়াতের আমির থেকে কেউ জানতে চায় না। জানতে চায়? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কি জামায়াতের আমির থেকে বাংলাদেশের মানুষ জ্ঞান নিতে চায়?
আমীর খসরু বলেন, জামায়াতের আমির মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে এতো জ্ঞান রাখে, সেটা আগে তো জানতাম না। উনার যে এতো জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি। আশা করি উনি আরও কিছু বলবেন আমাদেরকে, মুক্তিযুদ্ধে আর কী কী হয়েছিলো, ওগুলো তো বলতে পারেন, তাই না!
আর জিয়াউর রহমান সাহেবকে বিতর্কিত করে উনারা কী অর্জন করতে চাচ্ছে, সেটার উত্তরতো উনারা দিতে পারবে। আর জিয়াউর রহমান সাহেবকে মার্কেটিং করার আমাদের তো প্রয়োজন নাই, যোগ করে আমীর খসরু।
আমীর খসরু বলেন, যদিও এর কোনো সত্যতা নেই, একেবারে কোন সত্যতা নাই। একটা বানোয়াট সাবজেক্ট নিয়ে এইটা বক্তৃতায় নিয়ে আসা। আর এগুলো কি কেউ বিশ্বাস করবে?
এদিকে, একই দিন গুলশানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য ফ্যাসিবাদের বয়ান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল ও বিএনসিসিতে একটি বিশেষ দলের লোকজনের আধিক্যতা বেশি জানিয়ে এনিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি।
বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো, তারাই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, যা জাতির কাছে ঘৃণিত।
এ সময় তিনি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দলের সংখ্যা ও বিএনসিসি ক্যাডেটদের নির্বাচনে মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে একটি দল গেলো এক সপ্তাহে ২৯টি ভুয়া তথ্য প্রচার করছে।
এদিকে, বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক গোলটেবিল আলোচনার শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে জামায়াতের চিন্তা দেখা যায় না।