চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, কেউ করতে চাইলে প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনের ভিন্ন ভিন্ন সমাবেশে বক্ততায় তিনি আরও বলেন, এবাবের নির্বাচন কোনো সাধারণ ভোট নয়, জাতির কিসমত বা ভাগ্য বদলানোর। দেশের মানুষ আর পরিবার বা ব্যক্তি-গোষ্ঠীর রাজনীতি চায় না। বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থপাচারকারীদেরও দেশে এনে বিচার করার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কেউ কোনো ক্ষতি করতে এলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টায় ময়মনসিংহে সার্কিট হাউজ মাঠে আসেন জামায়াত আমির। জেলার ১১টি আসনের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারকারীদের অর্থসহ ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আর এবারের নির্বাচন জাতির ভাগ্য নির্ধারনের নির্বাচন বলেও জানান তিনি।
বিকালে গাজীপুরের জয়দেবপুর রাজবাড়ি মাঠে দিনের তৃতীয় ও শেষ সমাবেশে যোগ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পরও দেশ ও জাতির কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে রাজনৈতিক দলের।
তিনি বলেন, দুর্নীতিমুক্ত করা আমাদের অঙ্গীকার। আরেকটা দলও বলছে তারাও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে। তারা ৪৯ জন ঋণ খেলাপিকে নিয়ে নির্বাচন করছেন। আগে তাদের বাতিল করুন। তাদের যদি বগলের নিচে রেখে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বো, তাহলে বিষয়টি এমন হবে- যা বলেন তা করেন না, আমরা এটা চাই না।
জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনের প্রতীক তুলে দেওয়ার আগে তিনি বলেন, ১২ তারিখের তাদের গলায় বিজয়ের মালা পরিয়ে তারপরে ঘরে যাবেন। ভোটের হিসেব নিয়ে ঘরে যাবেন। ভোটের দিনে কেউ যদি অন্যায়ভাবে হাত বাড়ায়, সেই হাত স্তব্ধ করে দিতে হবে। চারটি নির্বাচনে মনের মতো করে ভোট দিতে পারেননি। যুব সমাজ জীবনে একটা ভোটও দিতে পারেনি। ভোট ডাকাত আসলে ছেড়ে দেবেন না। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটাও আমি দেবো, সেই দিন শেষ। এখন তোরটা তুই নে, আমারটা আমি নেবো। যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না। চরম ফ্যাসিস্টকে ক্ষমা করেনি। খালি হাতে বুক চিতিয়ে ফ্যাসিস্ট কে তাড়িয়েছে। আর এই সমস্ত ভোট ডাকাতদের বিদায় দেওয়া কোনো ব্যাপারই না।
এসময় শিল্প এলাকার মানুষের সুবিধায় কাজ করার আশ্বাস দেন জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা।