ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। এতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনসহ ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, তার একটি রূপরেখা এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারের ৫ অধ্যায়
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। যেখানে দারিদ্র্য নিরসন, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারসহ ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এতে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা এবং নিরাপদ ঢাকা বিনির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নৈতিকতা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি
বিএনপির ইশতেহারে প্রধান যে ৯টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা হলো: ১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ। ২. কৃষক কার্ড: ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও কৃষি বীমা প্রদান। ৩. স্বাস্থ্যসেবা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ৪. শিক্ষা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু। ৫. তরুণদের কর্মসংস্থান: কারিগরি উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ। ৬. ক্রীড়া: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ। ৭. পরিবেশ: ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ। ৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ ব্যবস্থা। ৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: পেপাল চালু এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান
ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের তালিকা করে তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ এবং বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই বিভাগ আহতদের চিকিৎসা, মামলার দ্রুত বিচার ও সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে।
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’
ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সুদৃশ্য পরিকল্পনাকেই আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমাদের পরিকল্পনায় ৪ কোটির বেশি তরুণ, নারী এবং কৃষক-শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানসহ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রতিটি সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।’
বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
বিএনপির পূর্ণাঙ্গ ইশতেহারে যা আছে: