একটি ভোটের গুরুত্ব যে কতো হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন প্রার্থীরা। লাখ লাখ ভোটারের মাঝে কোথাও জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে সাড়ে তিনশো ভোটে। আবার কোথাও মাত্র পাঁচশো ভোটে। তিন হাজারের কম ভোটও গড়ে দিয়েছে হার-জিতের ব্যবধান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থীর জমজমাট প্রচারের কারণে পুরো দেশ ছিলো সরগরম। তবে কিছু ফলাফল অবাক করেছে দেশের মানুষকে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে অন্তত ত্রিশটির মতো আসনে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ভোটই যে গুরুত্বপূর্ণ তা হারে হারে টের পেয়েছেন প্রার্থীরা।
প্রথমেই বলা যাক মাদারিপুর এক আসনের কথা। এখানে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার পরাজিত হয়েছেন মাত্র ৩৮৫ ভোটে। ব্যবধানের হিসেবে এবারের নির্বাচনে এটিই সর্বনিম্ন।
হাজার ভোটের কম ব্যবধানে হেরে যেতে হয়েছে এমন উদাহরণ আরও আছে। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলী পরাজিত হয়েছেন ৫৯৪টি ভোটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এক হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জয় পরাজয়-নির্ধারণ হয়েছে দুইটি আসনে। আর দুই হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে প্রার্থীর সংখ্যা ৪ জন। বিভিন্ন কারণে যারা ভোটে দিতে পারেননি তারা হয়তো এখন আফসোস করছেন।
শুধু তাই নয় ব্রাক্ষণবাড়িয়া এক আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নানের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হাসান তাপস পরাজিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬১ ভোটে।
এক হাজার ব্যবধানে হারার উদাহরণ আরও আছে। কক্সবাজার চার আসনে জামায়াত প্রার্থী নূর আহমেদ আনোয়ারী বিএনপির প্রার্থীর কাছে ১ হাজার ৫ শত ৪৯ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
দেশের উত্তরাঞ্চলেও কিছু আসনে এক প্রার্থীর ঘাড়ে অপর প্রার্থী নি:শ্বাস ফেলেছেন। রাজশাহী-এক আসনে জামায়াতের মুজিবুর রহমান বিএনপির প্রার্থীর কাছে এক হাজার ৮৮৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
রংপুর-৬ আসনেও জয়–পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে কম ভোটের পার্থক্যে। এই আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১ হাজার ৯৭১ ভোট।
ভোটের মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে রাজধানীতেও। ঢাকা ৭ আসনে এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে ২ হাজার ৩৯ ভোটে পরাজিত করেছেন।
নির্বাচনের অন্যতম আলোচনা ছিলো ঢাকা-১৩ আসনে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ২ হাজার ৩২০ ভোটে পরাজিত করেছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মামুনুল হককে।
ভোটের কঠিন হিসেব ছিলো বাগেরহাট এক আসনেও। জামায়াতের প্রার্থী মশিউর রহমান তার প্রতিদ্বন্দ্বী কপিল কৃষ্ণ মন্ডলকে পরাজিত করেন ২ হাজার ৫ শত ৬৭ ভোটে। খুলনা-৫ আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮।
নেত্রকোনা–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার পরাজিত হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৫টি ভোটে। একই পরিস্থিতি চট্টগ্রাম ১৪ আসনে। যেখানে পার্থক্য ২ হাজার ৮২৯। অন্যদিকে, ঢাকা–৪ আসনে জয়–পরাজয়ের ব্যবধান ২ হাজার ৯২০ ভোট।