অন্য রাজনৈতিক দলের মতো আবেদন গ্রহণ, ফি কিংবা সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের পক্ষ থেকে আটজন, এনসিপির দুজন রয়েছেন। এর বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জুলাই শহীদ পরিবার ও জাগপা থেকে একজন করে মনোনয়ন পেয়েছেন।
১৩ জনের তালিকায় রয়েছেন- জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম, ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নী, মহিলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজা হান্নান, বগুড়া অঞ্চল মহিলা জামায়াতের পরিচালক সাজেদা সামাদ, মহিলা জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম, নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মারদিয়া মমতাজ, জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাহবুবা হাকিম।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি আবেদন জমা নিয়েছে, ফি নিয়েছে এবং সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। কিন্তু আমাদের পদ্ধতি ভিন্ন। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, যোগ্যতা ও নৈতিক মানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১১-দলীয় জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে তিনি বলেন, জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়েছে। জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে না।
প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্য ও নীতিমালার বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা জানান, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কারণ দলের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে শহীদ পরিবার। এছাড়া এক পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে সংসদ সদস্য না করার দলীয় নীতিও কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়েছে।
মনোনীত প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদে নারীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। ব্রিফিংয়ে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
