সরকারি প্লট ও ডিউটি-ফ্রি গাড়ি নেবেন না বিএনপি সংসদ সদস্যরা

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) গাড়ি এবং কোনো প্রকার সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।

জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

বৈঠকের পর বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাদের শপথ না নেওয়া।

শপথ অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে একটি বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা শুধু সংবিধান অনুযায়ী 'সংসদ সদস্য' হিসেবেই শপথ নিচ্ছেন, 'সংবিধান সংস্কার পরিষদের' সদস্য হিসেবে নয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি বর্তমান সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানালেও সংস্কার পরিষদের কাঠামোগত বিষয়ে তাদের ভিন্ন অবস্থানের ইঙ্গিত দিল।

দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেয়ার এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘নতুন বাংলাদেশের’ এক ইতিবাচক বারতা হিসেবে দেখছেন। শায়রুল কবির খান বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকার অপচয় রোধ ও বিলাসিতা পরিহার করতেই তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই কঠোর নৈতিক অবস্থান নিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

tarek

সংসদীয় দলের এই বৈঠকের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নীতিগত অবস্থান ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিকেলের শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং তখনই মন্ত্রিসভার আকার ও সদস্য তালিকা স্পষ্ট হবে।

দীর্ঘদিন পর কোলাহল ও ব্যস্ততায় মুখর হওয়া সংসদ ভবন এলাকায় আজ এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো, যেখানে বিলাসিতা ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের সেবক হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে আসা নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।